বীরভূমঃ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিম্মায় রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ১৯টি বই। তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং ‘সঞ্চয়িতা’। অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বইগুলি গ্রন্থাগারে ফেরেনি। এই ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এবার দ্রুত বই ফেরত না দিলে নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।[TECHTARANGA-POST:11993]মঙ্গলবার সিউড়িতে বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ১২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “উনি বিশিষ্ট জন বলে ওঁর জন্য আলাদা নিয়ম হবে, এমনটা নয়।” সকলের জন্য একই নিয়ম কার্যকর হবে বলেই জানান তিনি। তবে বইগুলি আসলে কোথায় রয়েছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অন্য প্রশ্ন। বিধানসভা গ্রন্থাগারের কর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন, বইগুলি তাঁর ব্যক্তিগত হেফাজতে নেই। সেগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারে রয়েছে। বর্তমানে সেই চেম্বার ব্যবহার করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।[TECHTARANGA-POST:11992]কিন্তু গ্রন্থাগারের নিয়মে বই নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিলেই তা ‘ফেরত’ বলে গণ্য হয় না। বইগুলি আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রন্থাগারে জমা না পড়া পর্যন্ত রেকর্ডে সেগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু করা হিসেবেই থাকার কথা। আর সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এর পাশাপাশি রাজ্যের আগের সরকারের আমলে গ্রন্থাগারগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই কেনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছেন গৌরীশংকর। তাঁর দাবি, দলীয় স্বার্থেই এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এমন বই গ্রন্থাগার থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান।