কলকাতা: বর্ধমানসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক ভুয়ো চিকিৎসকের পর্দাফাঁস ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই মারাত্মক ছেলেখেলা বন্ধ করতে এবার অভূতপূর্ব কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে ভুয়ো চিকিৎসকদের জাল কাটাতে একাধিক কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হলো স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে চিকিৎসকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে যাচাই না করে কোনো অবস্থাতেই নতুন কোনো নিয়োগ করা যাবে না।সম্প্রতি ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত এক জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল যে, এই প্রাণঘাতী জালিয়াতি রুখতে রাজ্য কী কী সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালতের সেই কড়া অবস্থানের পর নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্য পরিষেবার অধিকর্তা স্বপন সোরেনের স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সমস্ত বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য জারি করা হয়। নির্দেশিকায় মূলত চারটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, ২০১৭ সালের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রুলস’-এর ৭(৪) নম্বর বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। চিকিৎসকদের লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থাগুলিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে কেউ চিকিৎসা পেশায় ঢুকতে না পারে।নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনো কর্মরত বা আবেদনকারী চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা রেজিস্ট্রেশন নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ দেখা দিলেই দ্রুত তা উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের নজরে আনতে হবে। এরপরও যদি কোনো বেসরকারি হাসপাতালে ভুয়ো চিকিৎসক কর্মরত অবস্থায় ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি অপরাধের অধীনে কঠিন আইনি ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তি বলবৎ করা হবে।ইতিমধ্যেই প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কাছে তাদের নিযুক্ত চিকিৎসকদের যোগ্যতার বিবরণ চেয়ে জরুরি রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলি। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিবার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে।[TECHTARANGA-POST:13263]