বঙ্গজয়ের পর দিকে দিকে অশান্তির আগুন! অরূপ বিশ্বাসের পার্টি অফিস ‘দখল’, তৃণমূল কাউন্সিলরের দপ্তরে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় আক্ষরিক অর্থেই ‘উলটপুরাণ’ ঘটেছে। গতবারের ২১৫ আসন থেকে কার্যত ধসে গিয়ে মাত্র ৮১টি আসনে থমকে গিয়েছে তৃণমূলের জয়রথ। অন্যদিকে, ৭৭ থেকে একলাফে ২০৬টি আসনে জিতে ঐতিহাসিক ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছে বিজেপি। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের এই বিশাল জয়ের আনন্দের মাঝেই ভোট পরবর্তী অশান্তির কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নির্বাচন কমিশন বারবার ‘বদলা নয়, বদল’-এর বার্তা দিলেও, ফল ঘোষণার রাত থেকেই জেলায় জেলায় উত্তেজনার খবর সামনে আসছে।সবথেকে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে। হেভিওয়েট প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের পরই তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় বা পার্টি অফিসটি বিজেপি কর্মীরা দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তৃণমূলের পতাকা সরিয়ে ওড়ানো হয়েছে গেরুয়া ঝাণ্ডা, মেতে ওঠা হয়েছে আবির খেলায়। একই উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে খাস ভবানীপুরেও। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দান পার্কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর অসীম কুমার বোসের অফিসে একদল যুবক হামলা চালায় বলে অভিযোগ। অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আসবাবপত্র ও দরকারি নথিপত্র রাস্তায় বের করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে অশান্তির আঁচ পৌঁছেছে উত্তর ও মধ্য বঙ্গাতেও। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের বহরমপুরেও রাতভর তাণ্ডব চালিয়েছে একদল দুষ্কৃতী। সেখানে তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপ-প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একাধিক দলীয় কার্যালয় তছনছ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শান্তি বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, তবুও ফল পরবর্তী এই হিংসার ছবি রাজ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি আয়ত্তে রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।[TECHTARANGA-POST:8777]হিডেন স্টোরিজ নিউজ