‘মুর্শিদাবাদে ৩ আসনেই হারছে তৃণমূল!’ দল ছেড়েই হুঁশিয়ারি বিদায়ী বিধায়কের
মুর্শিদাবাদ: ভোটের মুখে ফের বড়সড় ভাঙন বাংলার শাসক শিবিরে। প্রার্থিতালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন জলঙ্গির বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রজ্জাক। বুধবার রাতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন তিনি। তবে শুধু দলত্যাগই নয়, বিদায়বেলায় দলকে কার্যত খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে রজ্জাক দাবি করেছেন, “জলঙ্গি, ডোমকল এবং রানিনগর - মুর্শিদাবাদের এই তিন আসনেই হারছে তৃণমূল!”দল ছাড়ার মুহূর্তে রজ্জাকের নিশানায় ছিলেন দলের একাংশ নেতা এবং নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারক সংস্থা আইপ্যাক। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “তৃণমূলে এখন সততার কোনও জায়গা নেই। যারা তোলাবাজি করে টাকা দিতে পারছে, তারাই টিকিট পাচ্ছে।” জলঙ্গি ও ডোমকলে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী দাঁড় করানোর নেপথ্যে রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনের হাত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। [TECHTARANGA-POST:8048]উল্লেখ্য, সম্প্রতি জলঙ্গির সভায় নাম না করে রজ্জাককে বিঁধেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে দল রেয়াত করবে না। অভিষেকের সেই বার্তার পর থেকেই রজ্জাক শিবিরের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনী কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া সেই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়।রজ্জাকের এই দলত্যাগকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, “উনি তলে তলে বিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সেটা দল জানত।” অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেন, “২০২১-এর আগেও অনেকের ‘শ্বাসকষ্ট’ হয়েছিল। ফল বেরোনোর পর সেই কষ্ট উল্টো দিকে চলে যায়। ওঁর ক্ষেত্রেও তাই হবে।”[TECHTARANGA-POST:8043]রজ্জাক নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট না করলেও জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তিনি খুব শীঘ্রই কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। জলঙ্গিতে তৃণমূলের বাবর আলি বনাম বামেদের ইউনূস আলি সরকারের লড়াইয়ে রজ্জাকের এই বিচ্ছেদ শাসক দলকে কতটা চাপে ফেলে, এখন সেটাই দেখার।