ডায়মন্ড হারবারে শুভেন্দুর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! অভিষেকের গড়ে ঢুকেই পুলিশ-ডিএমকে চরম হুঁশিয়ারি?
ডায়মন্ড হারবার: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার নিজের প্রথম জেলা সফরেই বড়সড় চমক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি তাঁর প্রথম প্রশাসনিক সফরের জন্য বেছে নিলেন তৃণমূলের অলিখিত ‘জেলা হেডকোয়ার্টার’ তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভাকেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারকে! ডায়মন্ড হারবারের ‘সাগরিকা’ সরকারি ট্যুরিস্ট লজে শুভেন্দু পা রাখতেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক (DM), ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং সমস্ত থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে এক হাইভোল্টেজ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।[TECHTARANGA-POST:9191]মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকেই শুভেন্দুর কড়া নজরে রয়েছে বহুল চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’। আর, সেই গড়ে ঢুকেই পুলিশ ও প্রশাসনের সর্বোচ্চস্তরে একপ্রকার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালালেন তিনি। তবে, এই বৈঠকের মাঝেই এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ডায়মন্ড হারবারের স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক পান্নালাল হালদার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে ‘সাগরিকা’ ট্যুরিস্ট লজে পৌঁছে যান। কিন্তু, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁকে ফিরে যেতে হয়।[TECHTARANGA-POST:9188]সূত্রের খবর, ডায়মন্ড হারবার ও সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠছিল। ভোট পরবর্তী হিংসার একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে নানা সময়ে। এমনকী, গতকাল - শুক্রবার স্বয়ং তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।[TECHTARANGA-POST:9187]প্রশাসনিক বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই নয়, এই সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওরকম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9186]প্রশাসনিক সভা শেষ করেই আজ ডায়মন্ড হারবারের ফলতা বিধানসভা এলাকায় বিজেপির এক মেগা কর্মিসভায় যোগ দেবেন প্রধান বক্তা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন রয়েছে। সেই কারণে এই রাজনৈতিক সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।[TECHTARANGA-POST:9185]ফলতার সভা সেরে আজই নিজের পুরনো নির্বাচনী ক্ষেত্র নন্দীগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর — দুই আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। তবে, সাংবিধানিক নিয়ম মেনে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার জন্য একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হয়েছে এবং তিনি নন্দীগ্রামের আসনটি ছেড়েছেন। কিন্তু, আসন ছাড়লেও নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি যে তাঁর টান বিন্দুমাত্র কমেনি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জোর গলায় বলেছেন, “নন্দীগ্রামের মানুষকে আমি বুঝতে দেব না যে আমি এখন আর ওদের বিধায়ক নই। নির্বাচনের সময় এলাকার উন্নয়নের জন্য যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিজে দায়িত্ব নিয়ে সেই সব কাজ আমি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।”