কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে যেন প্রতি মুহূর্তেই চিত্রনাট্য বদলাচ্ছে! লোকসভার পর এবার খোদ বিধানসভার অন্দরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের তলা থেকে মাটি সরানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল ঘাসফুল শিবিরের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। বুধবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করে বসেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের বিদ্রোহী শিবিরে বিধায়কদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৮ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ৬৪ ছুঁয়ে ফেলেছে! আর এই ভাঙন এখানেই থামবে না। একদিকে যখন দল বাঁচাতে দিল্লিতে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর দরবারে ছুটে যাচ্ছেন পিসি-ভাইপো, ঠিক তখনই কলকাতায় ঋতব্রতর এই হুঙ্কার জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরাই আসল তৃণমূল। আমরা কোনওভাবেই কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না।”[TECHTARANGA-POST:9842]বর্তমানে চরম সংকটে দিন কাটছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। একদিকে লোকসভায় কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ এনডিএ শিবিরকে সমর্থন করতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন, অন্যদিকে রাজ্যসভাতেও সুখেন্দুশেখর ও সুস্মিতা দেবের মতো দাপুটে নেতারা ইস্তফা দিয়ে দল ছেড়েছেন। এই সাঁড়াশি চাপের মাঝেই দিল্লিতে মমতাকে নাকি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে ঋতব্রত বাবু সাফ জানিয়ে দিলেন যে দিল্লিতে কে কার সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করছেন, তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত নন। এর মাঝেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে, অভিষেকের তৈরি নতুন কমিটিতে থাকা সত্ত্বেও এবার বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন মালা রায় ও সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেত্রীরা। আর এই জল্পনা উস্কে দিয়েই অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ করে ঋতব্রত বলেন, “অভিষেকের সং আছে, কিন্তু কোনও গঠন নেই।”[TECHTARANGA-POST:9816]বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য কার্যত স্পষ্ট করে দিল যে তৃণমূলের রাশ এখন আর কালীঘাটের হাতে নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় চড়া সুরে দাবি করেছেন, বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যাটা আজ ৬৪ পেরিয়েছে, আগামীকাল হয়তো তা ৬৫ হয়ে যাবে। এই দলবদল এবং ভাঙনের ধারা অবিরাম চলতে থাকবে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজের অস্তিত্ব বাঁচাতে শেষমেশ কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেনও, তাহলেও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন এই বিশাল অংশটি নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবেই দাবি করে বাংলায় থেকে যাবে। ফলে দল ও প্রতীক কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে আগামী দিনে এক বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা, তা বলাই বাহুল্য।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার