মমতার ভাইয়ের অত্যাচারের শিকার? হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ২৭ বছর ধরে জমি দখলের বিস্ফোরক অভিযোগ ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধার!
কলকাতা: তৃণমূল জমানার অবসানের পর এবার খোদ কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের অন্দরে থাকা একাধিক জমি ও সম্পত্তি দখলদারির এক মারাত্মক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এলো। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে গায়ের জোরে জমি দখল এবং তার প্রতিবাদ করায় অকথ্য অত্যাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন এক ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধা। জমিজমা হারিয়ে এবং বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় ধাক্কা খেয়ে অবশেষে সুবিচারের আশায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেরই বাসিন্দা, আশি ছুঁইছুঁই রঞ্জনা হাজরা সশরীরে হাজির হলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ।[TECHTARANGA-POST:10222]মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরই আমজনতার অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য সপ্তাহে একদিন ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সেই দরবারেই হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্যানসার আক্রান্ত রঞ্জনা দেবী। তিনি অভিযোগ করেন, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বেশ কিছু মূল্যবান পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে, যা ১৯৯৯ সাল থেকে নাগাড়েই দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। মিড ডে মিলে ডিম বাদ? ইসকনের মেনু ঘিরে তোলপাড় রাজ্য!রঞ্জনা দেবীর দাবি, প্রথমে একটি পৈতৃক জায়গা জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ব্যবসা শুরু করেন অজিত এবং পরবর্তীতে সেখানে স্থায়ী বাড়িও বানিয়ে ফেলা হয়। এখানেই শেষ নয়, ২০১৭ সালে ১২-১৩ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের আরও একটি জমি দখল করে ব্যবসা ফাঁদেন তিনি। আর এই সমস্ত বেনজির অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই বৃদ্ধা ও তাঁর পরিবারের ওপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলা ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10211]অসহায় ওই বৃদ্ধার দাবি, অতীতে এই জমি মাফিয়াগিরির বিরুদ্ধে তিনি বহুবার স্থানীয় থানা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু পূর্বতন জমানায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখায়নি পুলিশ প্রশাসন, উল্টে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন তিনি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সমস্ত নথিপত্র-সহ একটি লিখিত অভিযোগপত্র তুলে দেন রঞ্জনা দেবী। তাঁর এই করুণ আকুতি শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:10206] মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অবিলম্বে এলাকায় সরকারি লোক পাঠিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষী যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে অতীতে বহুবার রাজনৈতিক স্তরে প্রশ্ন উঠলেও এই প্রথম কোনও ভুক্তভোগী সশরীরে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে এসে এমন গুরুতর অভিযোগ করায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।