মাঝরাতে ডোভালের গোপন বৈঠক! দেশের ১৪ প্রভাবশালী মুসলিম প্রতিনিধির সঙ্গে কী কথা হল?
নয়াদিল্লি: ‘সবকা সাথ, সবকা বিশ্বাস’—নরেন্দ্র মোদির এই স্লোগান কি এবার বাস্তব রূপ নিতে চলেছে? কারণ, নির্বাচনের আবহেই দেশের প্রথম সারির ১৪ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে অত্যন্ত গোপনে বৈঠক করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আধিকারিকের এই পদক্ষেপে এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে দিল্লিতে এই ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন ডোভাল। আগতদের এই তালিকায় ছিলেন, জাফর সারেসওয়ালা (ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ), ফারুখ প্যাটেল (কেপি গ্রুপের চেয়ারম্যান), এনামুল হক ইরাকি ও ইব্রারুল হক ইরাকি (জার্মান স্টিল), জুনেইদ শরিফ, জাফর লরি, এবং দাউদি বোহরা সমাজের নেতা জামাত আলতাফ সাদিকোট। এছাড়াও ছিলেন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন, এইমসের চিকিৎসক নিশত হোসেন এবং প্রবীণ সাংবাদিক সামিনা শেখ।বৈঠক শেষে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন জাফর সারেসওয়ালা। তিনি জানান, ডোভাল তাঁদের কথা অত্যন্ত মন দিয়ে শুনেছেন। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা একটি বড় উপমা টেনে বলেন, “ভারত একটি বড় জাহাজের মতো। আমরা যদি এগোই তবে সবাই মিলে একসঙ্গে এগোব, আর যদি ডুবি তবে সবাই একসঙ্গে ডুবব।” দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেছেন তিনি।আচমকা ডোভালের এই সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হাজারো প্রশ্ন উঠছে। অনেকে মনে করছেন, আগামী দিনে কি মোদি সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)-র মতো কোনও বড় এবং স্পর্শকাতর পদক্ষেপ করতে চলেছে? যদি তেমনটা হয়, তবে দেশের মুসলিম সমাজের বৃহত্তম অংশকে আগেভাগেই আস্থায় নিতে চাইছে কেন্দ্র। আবার কারও মতে, বিশ্বজুড়ে বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির নিরিখে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখা এখন ডোভালের প্রধান লক্ষ্য।নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝে ডোভালের এই ‘মুসলিম মিশন’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।