‘যুবরাজ’কে ত্যাগ না করলে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নতুন দল! বিধানসভা কাঁপিয়ে হুঙ্কার আখরুজ্জামানের!
কলকাতা: ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে গৃহযুদ্ধ এবার চরম আকৃতির রূপ নিল। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে খোদ দল— এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই দুয়ের মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যেই চূড়ান্ত ডেডলাইন ও শর্ত বেঁধে দিলেন বিক্ষুব্ধ বা ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের মুখ্য সচেতক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান। রঘুনাথগঞ্জের এই দাপুটে বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “অভিষেকের হাত ছাড়লে তবেই আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তাঁর সঙ্গে আছি।” নেত্রীকে দেওয়া বিদ্রোহীদের এই খোলাখুলি হুঁশিয়ারি ঘিরে এই মুহূর্তে বাংলার রাজনৈতিক আকাশে এক নজিরবিহীন মহাপ্রলয়ের মেঘ জমতে শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:9939]গত ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে শুরু হয়েছে এক ‘খেলা ভাঙার খেলা’। বিধানসভায় দল থেকে বহিষ্কৃত হেভিওয়েট নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেছে ‘নব্য তৃণমূল’। বিধানসভার মোট ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে রেকর্ড ৬৪ জন বিধায়ককে নিজের পক্ষে টেনে নিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের অনুমোদনে খোদ বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত। [TECHTARANGA-POST:9944]আর এই ফ্রন্টেরই মুখ্য সচেতক পদে বসা আখরুজ্জামানের দাবি, এই সংখ্যাটা আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পেতে চলেছে। শুরু থেকেই এই পরিষদীয় দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুপ্রিমো বা মেন্টর হিসেবে মেনে চললেও, ‘যুবরাজ’ অভিষেককে নিয়ে তাঁদের তীব্র আপত্তি ছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই অভিষেকের তৈরি সংগঠনকে ‘সং’ বলে কটাক্ষ করলেও, মমতাকে যে অভিষেকের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, তা এতখানি স্পষ্ট করে আগে কখনও বলা হয়নি। কিন্তু এবার প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান সাফ করে দিলেন যে অভিষেকের একাধিপত্য তাঁরা আর মেনে নেবেন না। নেত্রীর সিদ্ধান্ত যদি তাঁদের এই শর্তের বিরুদ্ধে যায়, তবে তাঁরা জোড়াফুল প্রতীক দাবি করে সম্পূর্ণ নতুন দল গড়তে বাধ্য হবেন।[TECHTARANGA-POST:9943]রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মহাবিদ্রোহের সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল নির্বাচনের পর পরিষদীয় দলের নেতা বাছাই এবং সই-জালিয়াতি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। প্রথমে ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি স্পিকারের কাছে জমা পড়লেও, বর্তমানে তা ৬৪-তে ঠেকেছে। শুধু বিধানসভাতেই নয়, লোকসভাতেও ২২ জন বিদ্রোহী সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট গঠনের রাস্তায় হাঁটায় দিল্লির সংসদীয় দলেও ভাঙন এখন সম্পূর্ণ। এরই মাঝে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে যে তৃণমূলের বাকি অংশটি হয়তো অস্তিত্ব বাঁচাতে ফের কংগ্রেসে মিশে যেতে পারে। তেমনটা হলে বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ধাক্কা খেতে পারে বুঝেই তড়িঘড়ি মমতার উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। একদিকে মমতাকে শর্তের বেড়াজালে বন্দি করা, অন্যদিকে নেত্রীর নিজের হাতে তৈরি মূল তৃণমূলকে বাঁচিয়ে রাখার এই ডাবল গেমের ভবিষ্যৎ কী হয়, তার উত্তর দেবে সময়।হিডেন স্টোরিজ নিউজ