বিধাননগর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে এক অদ্ভূত আতঙ্ক। সল্টলেকের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিধাননগর বিধানসভার বিশাল 'মৎস্য পাড়া' এখন এক গভীর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মনে বড় প্রশ্ন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি সত্যিই বাংলায় আমিষ আহার নিষিদ্ধ হবে? যদি তাই হয়, তাহলে হাজার-হাজার মাছ বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকের রুজিরুটির কী হবে?[TECHTARANGA-POST:8276]বিধাননগর পুরনিগম এলাকার ৩৫, ৩৬ এবং ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ছয়নাভি, নাওভাঙা, কুলিপাড়া, খাসমহল ও নলবনের মতো এলাকায় রয়েছে হাজার-হাজার বিঘে জলাশয়। মাছ ধরা, ভেড়ি পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে মাছের কারবারের উপর নির্ভর করেই এই অঞ্চলের হাজার-হাজার মানুষের জীবন চলে। কিন্তু, ভোটের হাওয়ায় এখন এই মৎস্যজীবীদের চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট।[TECHTARANGA-POST:8272]ছয়নাভির দীর্ঘদিনের মাছ শ্রমিক ভজা মণ্ডলের কথায়, “ওরা ক্ষমতায় এলে আমাদের বিরাট ক্ষতি হবে। শুনছি মাছ উৎপাদনই নাকি বন্ধ হয়ে যাবে। তখন কী খাব? ভিক্ষা করব?” একই সুর শোনা গেল দীপক সিং বা প্রসেনজিৎ মুণ্ডাদের গলায়। তাঁদের সাফ কথা, বাঙালির ঘরে মাছ ঢোকা বন্ধ হওয়া মানে কয়েক লক্ষ মানুষের পেটে লাথি মারা। বনবিবি মন্দিরের চাতালে বসে থাকা শ্রমিকদের একটাই চিন্তা - মাছ খাওয়া বা চাষ যদি সত্যিই নিষিদ্ধ হয়, তাহলে এই জলাশয়গুলির ভবিষ্যৎ কী?[TECHTARANGA-POST:8265]যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি এমন কোনও সরকারি ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিরোধীদের প্রচার এবং অন্যান্য রাজ্যে আমিষ নিয়ে কড়াকড়ির খবর এই মৎস্যজীবী এলাকায় দাবানলের মতো ছড়িয়েছে। চিংড়িঘাটা থেকে বাসন্তী হাইওয়ে পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল মৎস্য কারবারের কেন্দ্রে এখন রাজনীতির চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে 'অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই'।[TECHTARANGA-POST:8243]বিধাননগর থেকে ভাঙড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভেড়ি অঞ্চলের ভোটব্যাঙ্কে 'মাছ-ভাত' রাজনীতি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার