Hidden Stories (বাংলা)

Bankura Accident:আর ফেরা হল না মায়ের কোলে! দাদুর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়তেই ৪ বছরের শিশুকে পিষে দিল পুলিশের প্রিজন ভ্যান, রণক্ষেত্র বাঁকুড়া

বাঁকুড়া: স্কুল ছুটির পর মাত্র কয়েক মিনিটের পথ ছিল বাড়ি। দাদুর সাইকেলের রডে বসে বাড়ি ফিরছিল চার বছরের ছোট্ট ঋষভ। কিন্তু মায়ের কোলে আর ফেরা হল না তার। পিছন থেকে ছুটে আসা পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানের ধাক্কায় রাস্তা ছিটকে পড়ে দাদু ও নাতি। চোখের নিমেষে শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায় পুলিশের সেই ভারী গাড়ির পিছনের চাকা। শুক্রবার দুপুরে বাঁকুড়া শহরের রাজগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ঘটা এই নারকীয় ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার বছরের একরত্তি ঋষভ কর্মকারের জীবনপ্রদীপ। দুর্ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা, দফায় দফায় চলে পথ অবরোধ ও তীব্র বিক্ষোভ।[TECHTARANGA-POST:12541]বাঁকুড়া শহরের রাজগ্রামের রামকৃষ্ণ পল্লির বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ রঞ্জিত কর্মকার প্রতিদিনের মতোই এদিনও নিজের চার বছরের নাতি ঋষভকে স্থানীয় স্কুল থেকে নিয়ে সাইকেলে করে ফিরছিলেন। বর্ষার বৃষ্টিতে রাস্তাটি ভাঙাচোরা এবং খানাখন্দে জল জমে বিপজ্জনক হয়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগার থেকে বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে খাতড়া মহকুমা আদালতের দিকে প্রচণ্ড গতিতে যাচ্ছিল পুলিশের একটি ভ্যান। ভাঙা রাস্তার গর্ত এড়াতে গিয়ে বেপরোয়া গতির ভ্যানটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সামনে থাকা সাইকেলটির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ছিটকে পড়ে যান রঞ্জিতবাবু এবং ঋষভ। নিমেষের মধ্যে শিশুটিকে চাকায় পিষে দিয়ে থামার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় পুলিশের গাড়িটি।রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু ও তাঁর জখম দাদুকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ঋষভকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক পরিণতির খবর ছড়াতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনবহুল বসতি এলাকায় পুলিশের গাড়ির এমন বেপরোয়া গতি এবং মানুষ চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় বিধায়ক নীলাদ্রীশেখর দানা। তিনি উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও দোষী চালকের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তোলেন। এদিকে একরত্তি ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা তনুশ্রী ও বাবা অরূপ কর্মকার। পুরো পরিবার এখন শোকে কার্যত পাথর। পুলিশের ভ্যানটির গতি কেমন ছিল এবং কেন চালক ব্রেক কষতে পারল না, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে বাঁকুড়া থানার পুলিশ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

 Bankura Accident:আর ফেরা হল না মায়ের কোলে! দাদুর সাইকেল থেকে ছিটকে পড়তেই ৪ বছরের শিশুকে পিষে দিল পুলিশের প্রিজন ভ্যান, রণক্ষেত্র বাঁকুড়া