Hidden Stories (বাংলা)

সোনামুখীর পর এবার বাঁকুড়া! আচমকা ইস্তফা তৃণমূলের পুরপ্রধানের, তবে কি জেলা হাতছাড়া হচ্ছে ঘাসফুলের?

বাঁকুড়া: লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া জেলায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একের পর এক ধাক্কা খবরের শিরোনামে উঠে আসছে। সোনামুখী পুরসভার পর এবার খোদ বাঁকুড়া পুরসভাতেও বড়সড় ভাঙন। আচমকাই পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অলকা সেন মজুমদার। বুধবার বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতেই জেলা রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের প্রশ্ন, তবে কি বাঁকুড়া জেলা সত্যিই হাতছাড়া হতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের?[TECHTARANGA-POST:10040]মহকুমাশাসকের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে অলকা সেন মজুমদার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, দল তাঁকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছিল, তা তিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তবে হঠাৎ এই সিদ্ধান্তের পিছনে তিনি ব্যক্তিগত কারণ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মানের কথাই তুলে ধরেছেন। অলকাদেবীর দাবি, আগামী দিনেও দল তাঁকে যেভাবে ব্যবহার করতে চাইবে, তিনি সেই দায়িত্বই পালন করবেন। তবে সোনামুখী পুরসভার পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ের পর অলকা সেন মজুমদারের এই একই ধাঁচের ইস্তফা কিন্তু অন্য কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‘পার্টি অফিস গেছে, পার্টিও গেছে; এবার শুরু হবে ED-CBI-CID প্যারেড’— বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের ২০২২ সালে বাঁকুড়া পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেস বোর্ড গঠন করার পর অলকা সেন মজুমদারকে পুরপ্রধানের আসনে বসানো হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সময়টা খুব একটা মসৃণ কাটেনি। গত কয়েক বছরে বাঁকুড়া পুরসভাকে ঘিরে বারবার একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। পুরবোর্ডের অভ্যন্তরীণ মতভেদ থেকে শুরু করে কাউন্সিলরদের প্রকাশ্য ক্ষোভ, উন্নয়নমূলক কাজ থমকে থাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ এবং নানাবিধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অলকাদেবীকে ক্রমাগত রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাজকর্ম নিয়ে দলের অন্দরেই যে চোরা কোন্দল চলছিল, তা মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে চলে আসত।[TECHTARANGA-POST:10030]রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বাঁকুড়া পুরসভা বারবার রাজনৈতিক সংঘাতের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফলে অলকা সেন মজুমদারের এই পদত্যাগকে নিছক একটি সাধারণ প্রশাসনিক ঘটনা বা ‘ব্যক্তিগত কারণ’ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সোনামুখীর পর যেভাবে বাঁকুড়া পুরসভাতেও পুরপ্রধানের আসন শূন্য হলো, তাতে জেলায় তৃণমূলের রাশ আলগা হচ্ছে বলেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এখন দেখার, এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এবং পুরবোর্ড নিজেদের দখলে রাখতে শাসকদল আগামী দিনে কাকে এই হটসিটে বসায়।

সোনামুখীর পর এবার বাঁকুড়া! আচমকা ইস্তফা তৃণমূলের পুরপ্রধানের, তবে কি জেলা হাতছাড়া হচ্ছে ঘাসফুলের?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার