‘আমাকে হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে!’ ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক মমতা, সকাল হতেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে সরল বিশাল পুলিশবাহিনী
কলকাতা: রবিবার রাতের নজিরবিহীন টানটান উত্তেজনার পর সোমবার সকালে কার্যত ১৮০ ডিগ্রি বদলে গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ছবিটা। গতকাল রাতে যে বাড়ি ঘিরে রেখেছিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, সোমবার সকাল হতেই সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো অতিরিক্ত ফোর্স। [TECHTARANGA-POST:10628]বর্তমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য যেটুকু সাধারণ নিরাপত্তা বরাদ্দ থাকে, বাড়ির সামনে কেবল সেটুকুই চোখে পড়ছে। তবে রবিবার রাতের এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামা এবং তৃণমূল নেত্রীর ‘নজরবন্দি’ হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।কান্দিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উদযাপন, মাল্যদান গার্গী দাস ঘোষেরঘটনার সূত্রপাত বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। রবিবার সকালে বারুইপুরে পুকুর থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। দেহ আটকে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে অভিযুক্তকে গণপিটুনি এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এই আবহে গতকালই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বারুইপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে মৃতার বাবার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকেই হঠাৎ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়ির চারপাশ কার্যত দুর্গ বানিয়ে ফেলে পুলিশ বাহিনী। তৃণমূলের আইটি সেলের তরফ থেকে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।[TECHTARANGA-POST:10630]বাড়ি অবরুদ্ধ হওয়ার পরেই ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন, বারুইপুরে যাওয়া আটকাতেই তাঁকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বা নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি যখন থেকে ঘটনাটি শুনেছি, খুবই উদ্বিগ্ন। এর আগেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় অনেক মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছিল। আজকেও বারুইপুরের ঘটনা এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে, কারণ সহ্য করতে করতে মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "ভেবেছিলাম পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে একাই যাব। কিন্তু আমার বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে সমস্ত রাস্তায় প্রায় ১০০০ পুলিশ, সিআরপিএফ থেকে শুরু করে গুন্ডা দমন পুলিশ— সবাই মিলে জমায়েত হয়েছে। মুখে না বললেও এটা তো হাউস অ্যারেস্টেরই প্রমাণ। আমরা কি চোর না ডাকাত যে এখানে রুট মার্চ করতে হচ্ছে?"[TECHTARANGA-POST:10629]তৃণমূল নেত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর মধ্যরাতের পর থেকেই অবশ্য পরিস্থিতি হালকা হতে শুরু করে এবং ধাপে ধাপে পুলিশ সরানো হয়। তবে এই গোটা ঘটনাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল বিজেপি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কটাক্ষ করে বলেন, "চারিদিকে তৃণমূলের নেতারা যেভাবে ডিম খাচ্ছেন, তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাস্তায় বেরোলে তাঁর দিকেও যদি ডিম ছোড়ে, তাই পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক হয়েছে।" রাজনৈতিক মহলের মতে, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এবার খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দোরগোড়ায় এসে পৌঁছাল, যা আগামী দিনে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।