Hidden Stories (বাংলা)

১১ দিনে ১৩ উইকেট! সুজিত থেকে দেবরাজ, শুভেন্দু সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন’-এ কাঁপছে বাংলা

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার দিনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার। আর কুর্সিতে বসার পর থেকেই যেমন কথা, ঠিক তেমন কাজ করে দেখাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। শক্ত হাতে বাংলার রাশ ধরে শুরু থেকেই দুর্নীতিকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে অলআউট ব্যাটিং শুরু করেছে নতুন সরকার। [TECHTARANGA-POST:9290]প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের প্রভাবশালী নেতা— রেয়াত করা হচ্ছে না কাউকেই। রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই যৌথ ঝোড়ো অভিযানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে দুর্নীতির সাম্রাজ্য। পরিসংখ্যান বলছে, সরকার গঠনের মাত্র ১১ দিনের মাথায় দুর্নীতি ও নানাবিধ অপরাধের মামলায় ইতিমধ্যেই শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে মোট ১৩ জন রাঘববোয়ালের, যা দেখে ঘুম উড়েছে রাজনৈতিক মহলের।[TECHTARANGA-POST:9291]এই ‘অপারেশন ক্লিন’-এর লেটেস্ট ধামাকাটি ঘটেছে গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার। ভোট-পরবর্তী হিংসা, খুন ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে এক গোপন ডেরা থেকে আটক করেছে প্রশাসন। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী এই দেবরাজ ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ফেরার ছিলেন। [TECHTARANGA-POST:9191]এর ঠিক আগের দিনই, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ম্যারাথন জেরার পর ইডির জালে ধরা পড়েন জমি দুর্নীতি ও প্রতারণায় অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এবং তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন আসানসোলের তৃণমূল ব্লক সভাপতি রাজু অহলুওয়ালিয়া। শুধু তাই নয়, গত ১৭ মে তো একদিনেই রেকর্ড ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে তোলাবাজির দায়ে নদিয়ার পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাস এবং অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের অভিযোগে দিনহাটার প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী ও পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য রয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:9278]তবে দুর্নীতির শিকড় যে কতখানি গভীরে, তা স্পষ্ট হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা অত্যন্ত ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ তথা প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের গ্রেফতারে। সোনা পাপ্পু মামলায় নাম জড়ানো এই পুলিশকর্তা লুক আউট নোটিস জারি হওয়ার পর গত ১৪ মে ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।[TECHTARANGA-POST:9211] তারও আগে ১৩ মে বহরমপুরের তোলাবাজ কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার এবং নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তবে শুভেন্দু সরকারের প্রথম বড় ধাক্কাটি ছিল গত ১১ মে, যখন পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫০ জনের নাম সুপারিশ করার অভিযোগে দীর্ঘ জেরার পর ইডি গ্রেফতার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান সৈনিক তথা প্রাক্তন হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসুকে। মাত্র ১১ দিনে একের পর এক এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারে স্পষ্ট যে, দুর্নীতি দমনে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বর্তমান শাসক শিবির। আগামী দিনে এই তালিকায় আর কার কার নাম জোড়ে, সেটাই এখন দেখার।

১১ দিনে ১৩ উইকেট! সুজিত থেকে দেবরাজ, শুভেন্দু সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন’-এ কাঁপছে বাংলা

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার