নজিরবিহীন! কলকাতা পুরনিগমের অধিবেশন কক্ষে তালা, বাইরেই সভা বসালেন চেয়ারপার্সন মালা ও মেয়র ফিরহাদ!
কলকাতা: কলকাতা পুরনিগমের (KMC) ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল শুক্রবার। বন্ধ থাকল অধিবেশন কক্ষ, দরজায় ঝুলে থাকল তালা! ফলে নির্দিষ্ট দিনে পুরনিগমের মাসিক অধিবেশনে এসেও ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না নির্বাচিত কাউন্সিলরেরা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলরদের ক্লাব রুমে সভা বসালেন পুরনিগমের চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। সেই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর, কলকাতার পুরবোর্ডের কাজে এভাবে ব্যাঘাত ঘটানোর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলে শাসকদলের পক্ষ থেকে তীব্র অভিযোগ তোলা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9381]পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কলকাতা পুরনিগমের পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মালা রায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ সমস্ত কাউন্সিলরেরা যথাসময়ে পুর ভবনে উপস্থিত হন। কিন্তু, সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে মূল অধিবেশন কক্ষটি বন্ধ এবং তাতে তালা দেওয়া রয়েছে। খোদ পুরনিগমের চেয়ারপার্সন মালা রায় নিজে ঘরটি খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁর অনুরোধের পরও দীর্ঘক্ষণ তালা খোলা হয়নি। এই চরম অচলাবস্থার মুখে পিছু না হটে মালা রায় অধিবেশন কক্ষের বাইরে থাকা কাউন্সিলর ক্লাব রুমেই সভা করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরটিতে অধিবেশন চালানোর মতো উপযুক্ত আসন বিন্যাস না থাকায়, ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা নিজেরাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে যথাসম্ভব সাজিয়ে নিয়ে সভা শুরু করেন।[TECHTARANGA-POST:9380]ক্লাব রুমে অধিবেশন শুরুর আগে এই নজিরবিহীন ঘটনা প্রসঙ্গে চেয়ারপার্সন মালা রায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি তালা খুলে দেওয়ার কথা বলে পাঠিয়েছিলাম। আমরা প্রত্যেকেই এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কিন্তু, এখনও সেই তালা খোলা হয়নি। তাই, আমরা এখানেই অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি কথা পরে জানাব।” মেয়র ফিরহাদ হাকিম অবশ্য অধিবেশন শুরুর আগে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।[TECHTARANGA-POST:9379]তবে, এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। পুরনিগমের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “হতে পারে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু, পুরনিগম এখনও বৈধ। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তার বৈধতা রয়েছে। পুরনিগমের অধিবেশনে সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে কাজ হয়, আলোচনা হয়। তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগে এমনটা কখনও হয়নি।”[TECHTARANGA-POST:9378]উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। তবে রাজধানী কলকাতার পুরবোর্ড এখনও তৃণমূলের দখলেই রয়েছে এবং সেখানে ক্ষমতাসীন তারাই। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই বিজেপি এবার কলকাতার পুরনিগমের কাজেও গায়ের জোরে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছে, যার জেরেই শুক্রবারের এই নজিরবিহীন তালা-কাণ্ড। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি।