বেঙ্গালুরু: করোনা-মাঙ্কিপক্সের স্মৃতি উস্কে দিয়ে এবার খোদ ভারতের বুকেই থাবা বসাতে চলেছে পৃথিবীর অন্যতম মারণ ভাইরাস ‘ইবোলা’? মধ্য আফ্রিকায় ত্রাস সৃষ্টি করা এই ভাইরাসের আতঙ্কে এবার কাঁপছে ভারতের মাটি। উগান্ডা থেকে ভারতে আসা এক বিদেশি মহিলার শরীরে এই মারাত্মক সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে তড়িঘড়ি ওই রোগীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর শরীরের নমুনা পরীক্ষার জন্য পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।[TECHTARANGA-POST:9526]জানা গিয়েছে, গত ২৩ মে উগান্ডা থেকে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নেমেছিলেন ২৮ বছর বয়সী ওই বিদেশি মহিলা। বিমানবন্দর থেকে তিনি বেঙ্গালুরুর একটি হোটেলেও ওঠেন। কিন্তু তাঁর শরীরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা এবং ক্লান্তির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য বিভাগের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁকে দ্রুত ইন্দিরানগরের এপিডেমিক ডিজিজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্নাটকের স্বাস্থ্যবিভাগের প্রধান সচিব ঋত্বিক রঞ্জনম পান্ডে জানিয়েছেন, মহিলার শরীরে এখনও জ্বরের মতো স্পষ্ট লক্ষণ নজরে না আসায় এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ওই মহিলা ভারতে পা রাখার পর কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার রুট ম্যাপ খোঁজা শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9518]মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের নতুন রূপের বাড়বাড়ন্তের জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। আফ্রিকার কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে এই ভাইরাসের মারণ কামড়ে ইতিমধ্যেই ১২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত আরও কয়েকশো। পরিস্থিতি এতটাই খতরনাক যে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই ভাইরাসটি হাঁচি, কাশি, আক্রান্ত রোগীর স্পর্শ এবং সংক্রামিত প্রাণীর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। চোখ, নাক, মুখ বা শরীরের কোনও ক্ষতস্থানের মাধ্যমে এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে ডায়েরিয়া, তীব্র জ্বর ও বমির মতো উপসর্গ তৈরি করে।[TECHTARANGA-POST:9498]এই মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে ভারতকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নেমেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা সমস্ত বিমানযাত্রীদের বিমানবন্দরে কড়া স্ক্রিনিং করা হবে। পাশাপাশি, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কোনও ভারতীয় যেন এই মুহূর্তে আফ্রিকার এই দেশগুলিতে সফর না করেন, সেই বিষয়েও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখন পুনের ল্যাব থেকে ওই মহিলার রিপোর্টের দিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছে দেশের স্বাস্থ্য মহল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার