বীরভূমে উধাও ‘গুড়-বাতাসা’, ভোট দিয়ে তৃণমূলের ‘ম্যাজিক ফিগার’ জানিয়ে দিলেন শান্ত অনুব্রত!
বোলপুর: নেই সেই দাপুটে হুঙ্কার, নেই 'চড়াম চড়াম' ঢাকের বাদ্যি কিংবা 'গুড়-বাতাসা'র দাওয়াই। বীরভূমের মাটিতে এবারের ভোটচিত্র যেন সম্পূর্ণ আলাদা। বৃহস্পতিবার বোলপুরে শান্ত মেজাজেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তবে মেজাজ শান্ত থাকলেও, রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীতে বিন্দুমাত্র দমে যাননি তিনি। ভোট দিয়েই জানিয়ে দিলেন, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের 'ম্যাজিক ফিগার' কত হতে চলেছে![TECHTARANGA-POST:8325]এদিন বেলা কিছুটা গড়াতে মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে বোলপুর ভাগবত নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন অনুব্রত। ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “তৃণমূল এবার ২৩০টি আসন পাবে। আর বীরভূমের সবকটি আসনই তৃণমূলের দখলে থাকবে।” তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমনটা চেয়েছিলেন, বাংলায় ঠিক তেমনই শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:8324]এক সময় যাঁর দাপটে বীরভূমে 'বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত', সেই অনুব্রতর জীবনযাপন ও চলন-বলনে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে এদিন। অতীতে ভোটের দিন অনুব্রতর গতিবিধি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সদা সতর্ক থাকতে হত। কিন্তু, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রথম দফায় অনুব্রতকে দেখা গেল এক সাধারণ ভোটারের ভূমিকায়। এমনকী, ভোট দিয়ে ফেরার সময় কোনও বিলাসবহুল গাড়ি নয়, এক অনুগামীর বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরলেন 'কেষ্ট'।[TECHTARANGA-POST:8323]একদা অনুব্রত বলেছিলেন বীরভূমের রাস্তায় নাকি 'উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকে'। আজ সেই উন্নয়নের হদিশ সেভাবে না মিললেও, জেলার ভোট পরিস্থিতি অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ বা কমিশনের কড়া নজরদারির মাঝে অনুব্রতর এই শান্ত ভঙ্গি কি কোনও বিশেষ রণকৌশল? নাকি সত্যিই জনসমর্থনের উপর ভিত্তি করেই ২৩০ আসনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি?[TECHTARANGA-POST:8321]বীরভূমের সবক'টি আসনই কি তৃণমূলের ঝুলিতে আসবে? অনুব্রতর ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয়, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।