মমতার জোট-প্রস্তাব সপাটে ফেরাল আলিমুদ্দিন! সেলিমের এক কথাতেই কি ভেস্তে গেল ‘মহা-বিজেপি’ বিরোধী লড়াই?
কলকাতা: রাজ্যে সবেমাত্র শুভেন্দু-যুগের সূচনা হয়েছে। ব্রিগেডে শপথ নিয়ে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক সেই দিনই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন নাটকের সূত্রপাত হলো। বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে আরও ধারালো করতে বাম এবং অতিবামদের জোট বাঁধার আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই প্রস্তাবের জবাবে সিপিএম যা করল, তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটের ডাককে এক লহমায় পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাফ জানিয়ে দিলেন— ‘না, একদম না!’[TECHTARANGA-POST:8946]শনিবার নিজের বাড়ির সামনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর্জি জানিয়েছিলেন, বিজেপিকে রুখতে ইন্ডিয়া জোটের আদলে রাজ্যেও একটি যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলা হোক। যেখানে বাম এমনকি অতিবামদেরও পাশে চান তিনি। কিন্তু সেলিমের নেতৃত্বাধীন সিপিএম এদিন লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে এমন কারো সঙ্গে কোনোভাবেই হাত মেলাবে না তারা। দলের তরুণ ব্রিগেডের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা হয়েছে। এমনকি তৃণমূলের এই জোট-প্রস্তাবকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি প্রাক্তন ছাত্র নেতা সুপ্রিয় চন্দও।[TECHTARANGA-POST:8944]রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির বিচারে বারবার অবস্থান বদল করা তৃণমূলের পুরনো কৌশল। ২০১১ সালে বামেদের হঠাতে কংগ্রেসের হাত ধরেছিলেন মমতা, আর ২০২৬-এ ক্ষমতা হারিয়ে সেই বামেদেরই ‘বন্ধু’ হিসেবে পাশে চাইছেন তিনি। তবে আলিমুদ্দিনের কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দুর্নীতি আর তোলাবাজির তকমা গায়ে থাকা ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে আপাতত এক নৌকায় পা দিতে রাজি নয় লাল শিবির। বরং বিজেপি বিরোধিতার ময়দানে বামেরা যে একলাই নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, মহম্মদ সেলিমের ‘সাফ না’ তারই বড় প্রমাণ।