বামেদের আশায় ইতি? ২৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা ISF-এর, ভাঙড়ে নওশাদ-ক্যানিংয়ে আরাবুলই বাজি!
ভাঙড়: দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর বামেদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অবশেষে 'একলা চলো'রই ইঙ্গিত দিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে প্রথম দফায় ২৩ জনের প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করলেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। এই তালিকায় যেমন রয়েছে ভাঙড় পুনরুদ্ধারের লড়াই, তেমনই ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলত্যাগী ‘তাজা নেতা’কে দাঁড় করিয়ে বড় চমক দিয়েছে দল। তবে, এই তালিকার জেরে বাম-আইএসএফ জোটের ভবিষ্যৎ যে আরও সঙ্কটে পড়ল, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:7524]প্রত্যাশা মতোই নিজের গড় ভাঙড় থেকেই প্রার্থী হচ্ছেন বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। অন্যদিকে, গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত দলবদলটি ছিল আরাবুল ইসলামের। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েই পুরস্কার পেলেন তিনি! তাঁর পছন্দমতো ক্যানিং পূর্ব আসন থেকেই তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। আরাবুলের হাত ধরে ওই এলাকায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোই নওশাদদের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।[TECHTARANGA-POST:7518]আইএসএফ-এর এই প্রার্থী তালিকায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর সামাজিক ভারসাম্য। ঘোষিত ২৩টি আসনের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি প্রার্থী হিন্দু। সেক্যুলার বা অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। তবে, এই প্রার্থিতালিকা সামনে আসার পর জোট জট কাটার বদলে আরও ঘনীভূত হয়ে গেল।[TECHTARANGA-POST:7517] কারণ, বামেদের সঙ্গে যে চারটি আসন নিয়ে বিবাদ চলছিল, তার মধ্যে তিনটিতেই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে আইএসএফ। নন্দীগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল আসনেও প্রার্থী দিয়েছে তারা। যা বাম-কংগ্রেস শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘ আলোচনার পরও আসন সমঝোতা না হওয়ায় নওশাদরা কার্যত নিজেদের শক্তিতেই লড়ার বার্তা দিয়ে দিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আইএসএফ-এর এই একতরফা প্রার্থী ঘোষণা কি বামেদের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি জোটের কফিনে শেষ পেরেক, তার উত্তর দেবে সময়। তবে, আরাবুল ইসলামের মতো নেতার আইএসএফ-এর হয়ে লড়াই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।