Hidden Stories (বাংলা)

নদীর চর চুরি করে শওকতের ছেলের বিলাসবহুল ক্যাফে! বিঘার পর বিঘা জমি উধাও, তোলপাড় ক্যানিং!

ক্যানিং: রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতেই যেন এক এক করে খুলছে দুর্নীতির হাড়হিম করা সব ঝাঁপি। বঙ্গে পালাবদল ঘটার পর থেকেই ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসনে’ চলে গিয়েছেন ক্যানিংয়ের দাপুটে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। কিন্তু তিনি আড়ালে গেলেও তাঁর ও তাঁর ছেলের কীর্তি এবার চলে এল প্রকাশ্য রাস্তায়। ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর বিঘার পর বিঘা চর বেআইনিভাবে বুজিয়ে এক বিশাল বিলাসবহুল ক্যাফে গড়ে তোলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে শওকত-পুত্র ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নাকের ডগায় ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করে কীভাবে এই বেআইনি কারবার দিনের পর দিন রমরমিয়ে চলল, তা নিয়ে ক্যানিং জুড়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।[TECHTARANGA-POST:9507]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌখালী ব্রিজের কাছে মাতলা নদীর তীরে ‘অরণ্যের কুলে’ নামক একটি বিশাল ক্যাফে তৈরি করা হয়েছে। চারপাশের মনোরম ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বুক চিরে গড়ে ওঠা এই ক্যাফের জাঁকজমক চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে নদী ভরাটের এক বড়সড় কেলেঙ্কারী। অভিযোগ, বিঘার পর বিঘা নদীর সরকারি চর মাটি ফেলে বুজিয়ে এই ক্যাফেটি বানিয়েছেন শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের আরও বিস্ফোরক দাবি, শুধু এই ক্যাফে নির্মাণই নয়, শওকতের অনুগামীরা মৌখালী ব্রিজের আশপাশে কয়েকশো বিঘা নদীর চরের সরকারি জমি বেআইনিভাবে ভরাট করে পরবর্তীতে তা কোটি কোটি টাকায় বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বাবার রাজনৈতিক দাপট ও ক্ষমতাকে ঢাল বানিয়েই ইমরান এই বেআইনি সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। উল্লেখ্য, এই ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধেই কিছুদিন আগে এক ডেলিভারি বয়কে হকি স্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।[TECHTARANGA-POST:9506]এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। কারণ, যে মৌখালী ব্রিজের কাছে এই নদী ভরাটের মহোৎসব চলেছে, তার মাত্র ৫ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ক্যানিংয়ের মহকুমা শাসক (SDO) এবং এসডিপিও (SDPO)-র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি দফতর। এত কাছে তাবড় তাবড় সরকারি আধিকারিকরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন প্রশাসনের নাকের ডগায় এই পরিবেশ ধ্বংসের কাজ চলল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে আমজনতা। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কেউ মাতলা নদীর চর দখল করে রেস্তরাঁ বানিয়েছে, আবার কেউ বড় বড় লজ খুলে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে; আর প্রশাসন সব দেখেও হাত গুটিয়ে চোখ বন্ধ করে বসেছিল।[TECHTARANGA-POST:9505]এদিকে রাজ্যে সরকার বদলাতেই ক্যানিংয়ের এই নদী চুরির ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলামও। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি নদী ভরাট করে যেভাবে মাফিয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি দ্রুত বর্তমান প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। এই সমস্ত সরকারি জমি যাতে কোনোভাবেই হাতবদল না হতে পারে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি। এখন দেখার, শওকত মোল্লা বেপাত্তা থাকার মাঝেই তাঁর ছেলের এই ক্যাফে বিতর্কে ক্যানিং প্রশাসন শেষ পর্যন্ত বুলডোজার চালায় নাকি অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়।

নদীর চর চুরি করে শওকতের ছেলের বিলাসবহুল ক্যাফে! বিঘার পর বিঘা জমি উধাও, তোলপাড় ক্যানিং!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার