তিলোত্তমার ভিসেরা বদলে দেওয়ার নেপথ্যে খোদ ‘দিদি’? বিস্ফোরক চিঠি ফাঁস হতেই কেন কাঁপছে দিল্লিও!
কলকাতা: তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল, তা এককথায় গোটা রাজ্য তথা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এতদিন ধরে যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল, এবার যেন সেটাই সত্যি প্রমাণিত হলো। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে তিলোত্তমার ভিসেরা পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত আসল নমুনা নাকি সম্পূর্ণ নষ্ট বা বদলে দেওয়া হয়েছিল! আর এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে নাকি রয়েছে খোদ রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ! প্রাক্তন এক উচ্চপদস্থ ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো একটি গোপন চিঠি ঘিরে এখন তোলপাড় শিয়ালদহ আদালত থেকে শুরু করে সিবিআই দফতর।[TECHTARANGA-POST:10514]দিন কয়েক আগেই তিলোত্তমার বাবার হাতে এসে পৌঁছায় ওই বিস্ফোরক চিঠি। সেখানে স্পষ্ট বয়ানে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার পর তিলোত্তমার শরীর থেকে বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য যে লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর স্যাম্পেল বা নমুনা নেওয়া হয়েছিল, তা ল্যাবেই বদলে ফেলা হয়। রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিনজন নির্দিষ্ট আধিকারিক এই জঘন্য কারচুপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, রাজ্য ফরেনসিক ল্যাব থেকে যখন এই নমুনা সেন্ট্রাল ফরেন্সিক ল্যাবে (CFSL) পাঠানো হয়, তখনও আসল জিনিসটা চেপে গিয়ে জাল নমুনা পাঠানো হয়েছিল। আর সেই কারণেই হয়তো দিল্লির কেন্দ্রীয় ল্যাবও প্রথম দফায় এই কারচুপি ধরতে পারেনি।জনতার দরবারে বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ, নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসতিলোত্তমার পরিবার এই চিঠি পাওয়ার পরেই আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে আইনি পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে। আজই এই অতি সংবেদনশীল চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতের বিচারকের এজলাসে জমা দিতে চলেছে তারা। চিঠির এই মারাত্মক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এবং এর গভীরে গিয়ে আসল সত্য টেনে বের করতে যাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-কে দিয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই মর্মে আদালতের কাছে জোরালো আর্জি জানানো হবে।[TECHTARANGA-POST:10498]চিঠির পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে আরও হাড়হিম করা তথ্য। প্রাক্তন ওই ফরেনসিক আধিকারিক তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান তৃণমূল জমানায় এটাই প্রথম বা একমাত্র ঘটনা নয়। এর আগেও রাজনৈতিক হিংসায় খুন হওয়া একাধিক বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের মরদেহের ভিসেরা নমুনা একইভাবে নষ্ট করে দিয়েছিল ওই ল্যাবের অভিযুক্ত তিন আধিকারিক। অর্থাৎ, অপরাধীদের আড়াল করতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরের মদতে এই ল্যাবটিকে হাতিয়ার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এখন দেখার, আদালতের হস্তক্ষেপে এই বড়সড় ষড়যন্ত্রের জট শেষপর্যন্ত খোলে কিনা।