ক্ষমতা দখলের ছক বনাম নারী অধিকার: সংবিধান সংশোধনী বিল ঘিরে রণক্ষেত্র জাতীয় রাজনীতি
নয়াদিল্লি: সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের পর তা মুখ থুবড়ে পড়তেই কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেল দেশের রাজনীতি। একদিকে যখন শাসক পক্ষ একে নারী অধিকার হরণের তকমা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এটি আসলে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। বর্তমানে বিল পাশ বা আটকে যাওয়ার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে 'ন্যারেটিভ' বা ব্যাখ্যার লড়াই। [TECHTARANGA-POST:8147]লোকসভা নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে বাস্তব রাজনীতির চেয়েও ধারণার রাজনীতিই এখন মূল যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের অভিযোগ, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসকে হাতিয়ার করে ক্ষমতার সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে বদলাতে চেয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আটকাতে তারা সফল হয়েছে। অন্যদিকে, পালটা তোপ দেগে বিজেপির দাবি, এই ঐতিহাসিক বিল আটকে দিয়ে বিরোধীরা দেশের কোটি কোটি মহিলার ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8148]শনিবার দুপুরে কংগ্রেস সদর দপ্তর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার আড়ালে আসলে ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল সাজানো হচ্ছিল। তাঁর মতে, নারী সংরক্ষণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের এই পরিকল্পনা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।[TECHTARANGA-POST:8112] তবে প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা আক্রমণ শানান স্মৃতি ইরানি ও রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁদের দাবি, বিলটি পাস হলে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাত, কিন্তু স্রেফ সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিরোধীরা সেই সুযোগ নষ্ট করেছে। এই তরজা কেবল কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছে রাজপথেও।[TECHTARANGA-POST:8137]দিল্লির রাজপথে এদিন উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। বিল আটকে যাওয়ার প্রতিবাদে বিজেপি মহিলা মোর্চার কর্মী-সমর্থকরা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবন লক্ষ্য করে বিশাল মিছিল বের করেন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে কুশপুতুল দাহ করে প্রবল প্রতিবাদ জানান। [TECHTARANGA-POST:8126]পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসের এই টানাপোড়েন এখন জনমানসে কার দাবিকে 'সত্য' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি। ভোটের আগে এই ইস্যুটি যে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের জন্যই প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে, তা রবিবারের এই তপ্ত পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট।