দুর্নীতি ও কাটমানি রুখতে কড়া পদক্ষেপ! সরকারি কেনাকাটায় সিভিসি-র নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করল শুভেন্দুর সরকার
কলকাতা: এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি কেনাকাটা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নবগঠিত রাজ্য সরকার। সরকারি স্তরে দুর্নীতি, কাটমানি এবং কমিশন নেওয়ার মতো বেআইনি রমরমা রুখতে রাজ্যের সমস্ত দফতরে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসি (CVC)-এর গাইডলাইন বা নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নবান্নের অর্থ দফতরের তরফে একটি উচ্চপর্যায়ের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9344]নবান্ন সূত্রে খবর, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প রূপায়ণ, পণ্য ক্রয় এবং টেন্ডার বণ্টনের ক্ষেত্রে ভূরি ভূরি অনিয়ম, স্বজনপোষণ ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠত। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই বড়সড় সংস্কারে হাত দিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। আগে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূলত পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব 'ফিনান্সিয়াল রুলস' বা আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হত। প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, সেই নিয়মের ফাঁকফোকর গলেই অতীতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। নতুন নিয়মে সেই সমস্ত গলদ দূর করা সম্ভব হবে।[TECHTARANGA-POST:9343]রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্রের স্বাক্ষর করা ওই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সমস্ত দফতর, স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে কোনও পণ্য বা পরিষেবা ক্রয় কিংবা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাত (টেন্ডার) দেওয়ার সময় বিদ্যমান আর্থিক বিধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্ধারিত যাবতীয় নিয়ম ও নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব দফতরকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9342]মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন এক বড়সড় পদক্ষেপ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থ দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন। তিনি সরকারি অর্থ অপচয় এবং কমিশন রাজের সমস্ত রাস্তা একেবারে গোড়া থেকে বন্ধ করে দিতে চান। সিভিসি-র গাইডলাইন কার্যকর হলে সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না। এর ফলে সরকারি স্তরে নজরদারি আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প সংক্রান্ত যে কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।