‘একেকটা জেলাকে বাপের সম্পত্তি ভেবেছিল!’ তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারে চরম খুশি দেবাংশু, দলের ভরাডুবির মাঝেই বিস্ফোরক পোস্ট
কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর এবার তৃণমূলের অন্দরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও ফাটল একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল। একদিকে যখন দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলর এবং হেভিওয়েট নেতারা পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন, অন্যদিকে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় শওকত মোল্লার মতো প্রাক্তন দাপুটে বিধায়ক এনআইএ-র (NIA) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন, ঠিক তখনই নিজের দলেরই এই ধৃত নেতাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে বোমা ফাটালেন তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। নিজের ফেসবুক ওয়ালে কারও নাম না করে ধৃত নেতাদের ‘চোর, ডাকাত, তোলাবাজ’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। দলের এই চরম বিপর্যয়ের দিনে দেবাংশুর এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9799]শনিবার সামাজিক মাধ্যমে কারও নাম উল্লেখ না করলেও দেবাংশুর নিশানায় যে সম্প্রতি শ্রীঘরে যাওয়া স্বরূপ বিশ্বাস, শওকত মোল্লা কিংবা সুজয় হাজরার মতো তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলররা রয়েছেন, তা বুঝতে কারও বাকি নেই। অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেবাংশু লিখেছেন, কিছু চোর, ডাকাত, তোলাবাজদের গ্রেপ্তার দেখে তাঁর যে কী আনন্দ হচ্ছে, তা বলে বোঝানোর নয়। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও লেখেন, এই নেতারা একেকটা জেলাকে নিজেদের বাপের সম্পত্তি ভেবে বসেছিল এবং আঙুলের ডগায় পুলিশকে নাচাতো। সাধারণ মানুষের বুকের ওপর পা দিয়ে সাম্রাজ্য গঠন করে নিজেদের এক একজন ‘ছোট মুখ্যমন্ত্রী’ ভাবত এরা। এই সমস্ত ‘বদমাইশদের’ পাপের দায়ভার যে তিনি বা দলের সৎ কর্মীরা কোনোভাবেই নেবেন না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই তরুণ নেতা।[TECHTARANGA-POST:9796]নির্বাচনে তৃণমূলের এমন নজিরবিহীন পরাজয়ের জন্য এই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন দেবাংশু। তাঁর সাফ কথা, জেলায় জেলায় দলের এই ভরাডুবির আসল হোতা হলেন এই নেতারাই। যাঁরা সৎভাবে রাজনীতি করেছেন, গায়ে কালির দাগ লাগতে দেননি, তাঁরা এই সমস্ত অপরাধীদের দায় পরাজয়ের পরেও কেন কাঁধে নিতে যাবেন? সেই কারণেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে এই সমস্ত নেতাদের স্থায়ীভাবে দল থেকে ঝেড়ে ফেলার জোরদার দাবি তুলেছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দেবাংশুর এই আকস্মিক সুর বদল কেবল দল শুদ্ধকরণের চেষ্টা নয়, বরং রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রকারান্তরে বিজেপিতে যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার রাখারই এক চতুর কৌশল। এখন দেবাংশুর এই পোস্টের পর তৃণমূল তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটাই দেখার।