পরিবর্তনের’ ভোটকেও ছাপিয়ে গেল ২০২৬, শেষ দফায় ৩ ঘণ্টা বাকি থাকতেই ভাঙল ২০১১-র রেকর্ড!
কলকাতা: বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে তৈরি হল এক অভাবনীয় নজির। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম এবং দ্বিতীয় দফায় বুধবার যে হারে ভোট পড়েছে, তা পূর্ববর্তী সমস্ত রেকর্ডকে ধূলিসাৎ করে দিল। বিশেষ করে ২০১১ সালের সেই বহুল চর্চিত ‘পরিবর্তনের’ নির্বাচনে ভোটদানের যে হার ছিল, বুধবার দুপুর ৩টের মধ্যেই তাকে অতিক্রম করে গেল এবারের ভোট।[TECHTARANGA-POST:8541]নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৮.৬৮ শতাংশ। কিন্তু, সামগ্রিক পরিসংখ্যান (প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে) আরও চমকপ্রদ। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে বুধবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬.৩৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনের অবসানের সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা আগেই ১৫ বছর আগের সেই রেকর্ড ভেঙে নয়া ইতিহাস গড়ল ২০২৬-এর ভোট।[TECHTARANGA-POST:8536]পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে এবার মোট ভোটার ৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৩ জন। বুধবার ৩টে পর্যন্ত ৫ কোটি ৮৯ লক্ষ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রথম দফার বিপুল ভোটদানের ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় দফাতেও ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলিতে বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইন এই নজিরবিহীন হারের নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8530]রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভোটারদের সচেতনতাই এই বিপুল ভোটদানের অন্যতম কারণ। ভোট শেষ হওয়ার শেষ তিন ঘণ্টায় এই হার আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দফার শেষে এই হার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার। তবে বেলা ৩টের মধ্যেই রেকর্ড ভেঙে বাংলার মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন, গণতন্ত্রের এই উৎসবে তাঁদের অংশগ্রহণ সর্বকালীন সেরা হওয়ার পথে।