‘ওরা আমার রাস্তা আটকেছে, বাঁচাও!’ সহকর্মীদের ফোনে আকুতি, দিঘার হোটেলকর্মীর রহস্যমৃত্যুতে ঘনীভূত রহস্য
দিঘা: রাত সাড়ে ৯টায় কাজ শেষ করে সাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু তার কিছু ক্ষণ পরেই সহকর্মীদের মোবাইলে আসে তাঁর একটি আতঙ্কিত ফোন। ফোনে তিনি জানান, দিঘা সীমান্তের কাছে কয়েক জন অচেনা লোক তাঁর পথ আটকে দাঁড়িয়েছে! ফোনে যুবকের সেই আকুতি শুনে সহকর্মীরা যখন তড়িঘড়ি অকুস্থলে পৌঁছান, ততক্ষণে সব শেষ। রাস্তার ধারে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই যুবক। সৈকত শহর নিউ দিঘায় এক হোটেলকর্মীর এই হাড়হিম করা রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত যুবকের নাম মিলন মাইতি (৩১)। তিনি রামনগর থানার যোশথিকঘরি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং নিউ দিঘার একটি নামী হোটেলে কাজ করতেন। শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকায় এই মৃত্যুকে ঘিরে দানা বাঁধছে হাজারো প্রশ্ন।[TECHTARANGA-POST:10206]হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নিখোঁজ ও পরে উদ্ধার হন মিলন। দিঘা সীমানার কাছে একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আগলেছে— ফোনে এই বার্তা পাওয়ার পরপরই হোটেলের কর্মীরা যখন ঘটনাস্থলে ছোটেন, তখন মিলনকে রাস্তার পাশে অত্যন্ত অসুস্থ ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মিলনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মিলনের দেহে বাইরে থেকে কোনো চোট বা মারধরের দাগ মেলেনি। তবে কি আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হলো, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো বিষপ্রয়োগ বা অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র? মিলনকে কারা আটকেছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রামনগর ও দিঘা থানার পুলিশ। রহস্যের জট খুলতে মিলনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, শেষমুহূর্তে মিলনের ফোন পাওয়া হোটেলের দুই কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ খোলসা হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।