হাইকোর্টে ধাক্কা খেয়েও হাজিরা এড়ালেন অভিষেক! ‘ডিজে’ মন্তব্যে এবার চরম পদক্ষেপ আদালতের, মিলল নতুন ডেডলাইন
কলকাতা: বিধানসভা ভোটের উত্তপ্ত আবহে দেওয়া সেই বহুচর্চিত ‘ডিজে’ মন্তব্য মামলায় এবার আরও বিপাকে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ এবং সিআইডি-র তলব সত্ত্বেও গত মঙ্গলবার বিধাননগর আদালতে হাজিরা দেননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শুধু তাই নয়, এই হাজিরা এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও শেষমেশ বড়সড় ধাক্কা খেতে হয়েছে তাঁকে। এই চরম টানাপোড়েনের মাঝেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল বিধাননগর আদালত। কণ্ঠস্বরের নমুনা (ভয়েস স্যাম্পল) সংগ্রহের জন্য আগামী বুধবার, অর্থাৎ ৮ জুলাই সকাল ১০টায় তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নতুন করে সমন জারি করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10463]তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক জনসভা থেকে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘ডিজে বাজানো’ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর ঠিক কী পরিস্থিতি হবে, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!” নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাঁর এই বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ হিসেবে দেগে দিয়ে আইনি পদক্ষেপ করা হয়। প্রথমে বিধাননগর পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলেও পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় সিআইডি। এই বক্তব্যের সত্যতা ও ফরেনসিক প্রমাণের জন্যই সিআইডি আধিকারিকেরা অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে মরিয়া।[TECHTARANGA-POST:10469]আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৩০ জুন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা নেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল সিআইডি। কিন্তু অভিষেক আদালতে না গিয়ে উল্টে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, যেহেতু অভিষেক নিজেই স্বীকার করেছেন যে ওই কণ্ঠস্বর তাঁর, তাই আলাদা করে নমুনা সংগ্রহের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ এই যুক্তি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে ঠিক কোন পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা তদন্তকারী সংস্থাকে আদালত বলে দিতে পারে না। এই মন্তব্যের পর বিচারপতি মামলাটি ছেড়ে দিলে চরম আইনি সংকটে পড়েন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এই অবস্থায় দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতির অফিসে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেকের আইনজীবীরা, যাতে ৮ জুলাইয়ের ডেডলাইনের আগে অন্য কোনো এজলাসে স্বস্তি মেলে। এখন আগামী বুধবার অভিষেক আদালতে যান নাকি আইনি লড়াইয়ে নতুন কোনো মোড় আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।