করোনা-মাঙ্কিপক্সের পর এবার ঘাতক ইবোলার এন্ট্রি! দিল্লি বিমানবন্দরে হাই-অ্যালার্ট জারি, কতটা বিপদে পশ্চিমবঙ্গ?
কলকাতা: করোনা বা মাঙ্কিপক্সের ভয়াবহ স্মৃতি কাটতে না কাটতেই এবার বিশ্বজুড়ে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করছে অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার বেশ কিছু দেশে এই ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। আর এই আবহে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এক জরুরি জনস্বাস্থ্য নির্দেশিকা বা ‘পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি’ জারি করা হয়েছে। দিল্লিতে এই হাই-অ্যালার্ট জারির পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আমাদের রাজ্য অর্থাৎ কলকাতা কতটা সুরক্ষিত এবং এই ভাইরাসের জেরে কতটা ঝুঁকিতে রয়েছেন এরাজ্যবাসী।[TECHTARANGA-POST:9388] চিকিৎসকমহলের একাংশের ব্যাখ্যা, কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি আফ্রিকা থেকে বিমান না এলেও, দিল্লি, মুম্বই, দুবাই বা দোহার মতো বড় হাবগুলো থেকে প্রচুর কানেক্টিং ফ্লাইটের আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রতিদিন কলকাতায় আসেন। তাই দিল্লিতে স্ক্রিনিং জোরদার হলেও, কলকাতা বিমানবন্দরেও যাত্রীদের ট্রাভেল হিস্ট্রির ওপর কড়া নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদিও এই মুহূর্তে এরাজ্যে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ ভারতে এখনও কোনো ইবোলা আক্রান্ত রোগী মেলেনি।[TECHTARANGA-POST:9387]বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হেলথ সার্ভিসেস এই নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে। মূলত ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদান— এই তিনটি দেশকে ইবোলার ক্ষেত্রে 'হাই-রিস্ক' বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আফ্রিকার এই দেশগুলোতে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে এবং সাম্প্রতিকতম আউটব্রেকে কঙ্গোতেই অন্তত ৫১৩ জন সন্দেহভাজন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে ইতিমধ্যেই কঙ্গো এবং উগান্ডার যাত্রীদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জর্ডন। ভারতও তাই আগেভাগেই দেশের প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়াচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা বা এই দেশগুলোর ওপর দিয়ে ট্রানজিট করে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি মেনে দিল্লি বিমানবন্দরের মতো কলকাতা বিমানবন্দরেও নজরদারি বাড়ানোর ও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।[TECHTARANGA-POST:9385]চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাল রোগ, যা মূলত আফ্রিকার এক বিশেষ প্রজাতির ফলখেকো বাদুড় থেকে বন্য পশুদের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মলমূত্র বা যেকোনো ধরনের শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্য সুস্থ মানুষ সংক্রমিত হন। এটি কিন্তু সাধারণ সর্দি-কাশির মতো বাতাসে ছড়ায় না। দিল্লি বিমানবন্দরের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীর মধ্যে তীব্র জ্বর, চরম শারীরিক দুর্বলতা, পেশিতে যন্ত্রণা, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের ভেতর বা বাইরে থেকে রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দিলে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের আগেই বিমানবন্দরের হেলথ ডেস্কে রিপোর্ট করতে হবে। এছাড়া বিমানবন্দর ছাড়ার পর ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো যাত্রীর এই লক্ষণগুলি দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এবং নিজের বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।