Fake PMO Officer: পিএমও-র বড়কর্তা সেজে সোজা নবান্নে ঢুকলো রহস্যময়ী! মন্ত্রীকে দেখেই প্রশ্নবাণ, দিল্লি থেকে ধৃত আকাঙ্ক্ষা
হাওড়া: রাজ্য প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র নবান্নের নিরাপত্তার ফাঁক গলে এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর (পিএমও)-র ভুয়ো আধিকারিক সেজে ঢুকে পড়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। নবান্নে প্রবেশ করে বেশ কিছু গোপন ও প্রশাসনিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থী নামের এক রহস্যময়ী মহিলাকে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নবান্নের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক অন্দরে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ দর্শনার্থীদের মতোই রীতিমতো আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সাক্ষাতের সময় নিয়ে নবান্নে এসেছিলেন দিল্লির বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি সোজা চলে যান রাজ্য সরকারের পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের দফতরে। সেখানে মন্ত্রী ও দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকও করেন তিনি। আলাপের শুরুতেই নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক প্রভাবশালী আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন আকাঙ্ক্ষা। এরপর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নানা প্রশাসনিক ও গোপন তথ্য জানতে চান। তবে কথা বলার ধরন এবং তাঁর অস্বাভাবিক হাবভাব দেখে আধিকারিকদের মনে চরম সন্দেহের দানা বাঁধে। বিপদ বুঝে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতির আঁচ পেয়েই কোনোমতে নবান্ন থেকে চম্পট দেন ওই মহিলা।[TECHTARANGA-POST:13246]পরবর্তীকালে তড়িঘড়ি সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে জানা যায়, পিএমও-র সঙ্গে ওই মহিলার দূরদূরান্তেও কোনো সম্পর্ক নেই। ভুয়ো পরিচয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্পষ্ট হতেই পূর্ত দফতরের তরফে শিবপুর থানায় অবিলম্বে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নড়েচড়ে বসে হাওড়া সিটি পুলিশ।প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল সোজা দিল্লিতে গিয়ে হানা দেয়। সেখান থেকেই আকাঙ্ক্ষাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দিল্লির স্থানীয় আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি পেয়ে শুক্রবার সকালে তাঁকে বিমানবন্দর হয়ে নিয়ে আসা হয় শিবপুর থানায়। অভিযুক্ত মহিলাকে হাওড়া মহকুমা আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম)-এর এজলাসে পেশ করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় রুজু করা হয়েছে মামলা। ঠিক কী উদ্দেশে এই জালিয়াত মহিলা নবান্নে প্রবেশ করেছিলেন এবং এর পেছনে কোনো আন্তঃরাজ্য তথ্যপাচার চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।