বিডিও পদ পাইয়ে দিতে ‘বাহুবলী’র সুপারিশ! শানু-জাহাঙ্গিরের গোপন চ্যাট ফাঁস, ভোট কারচুপির অভিযোগ বিজেপির
ডায়মন্ড হারবার: বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক কেলেঙ্কারি ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁসের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গেল। ফলতার তৎকালীন বিডিও শানু বক্সি এবং এলাকার ‘বাহুবলী’ তথা তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গির খানের মধ্যকার বেশ কিছু গোপন কথোপকথনের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ফাঁস করে বিস্ফোরক দাবি তুললেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিজেপির স্পষ্ট অভিযোগ, জাহাঙ্গির খানের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও পদে বসানো হয়েছিল এবং এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেদার কারচুপি করা।[TECHTARANGA-POST:9420]বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শানু বক্সি এবং জাহাঙ্গির খানের যে কথিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলি জনসমক্ষে এনেছেন, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিজেপি নেতা লিখেছেন, ‘শানু বক্সীকে ফলতার BDO বানানোর “অপারেশন”।’ সামনে আসা একটি স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, শানু বক্সি স্বয়ং জাহাঙ্গির খানকে একাধিক সরকারি পিডিএফ ডকুমেন্ট পাঠাচ্ছেন! যার জবাবে জাহাঙ্গির লিখছেন, “শানু করে দিলাম। যেটা বলেছি, সেটা করলাম।” অন্য একটি চ্যাটে জাহাঙ্গিরকে লিখতে দেখা যাচ্ছে, “আজ শানু বক্সী বিডিও ফলতা তাহলে।” ওপার থেকে জবাব আসে, “হ্যাঁ গো!”[TECHTARANGA-POST:9418]এই সব তথ্য তুলে ধরে বিজেপি নেতা ববির অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে শানু বক্সিকে ফলতায় বদলি করে আনার মূল কারিগর ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নেতা জাহাঙ্গির খান। ববির দাবি, “শানু-জাহাঙ্গিরের চ্যাট থেকেই পুরো বিষয়টি জলের মতো পরিষ্কার। ও বিডিও হয়ে আসার ফলেই লোকসভা ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারদের চমকে, ভয় দেখিয়ে ইভিএমে সেলোটেপ মারা হয়েছিল।” তাঁর সংযোজন, এই ভোট জালিয়াতির জেরেই ২০২৪-এ ফলতা থেকে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ভোটের বিপুল লিড পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9417]অন্যদিকে, এই বিপুল বিতর্কের মুখে পড়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে সম্পূর্ণ দায় প্রযুক্তির ওপর চাপিয়েছেন প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সি। জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে এই কথোপকথন প্রসঙ্গে তাঁর সাফাই, “আজকালকার দিনে প্রযুক্তির মাধ্যমে সবকিছুই সম্ভব। এই চ্যাটের সবকিছুই আদতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।” প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে ফলতায় এলেও, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে শানু বক্সিকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। শানুকে নিয়ে এর আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সুর চড়িয়েছিলেন এবং তাঁকে ‘সাদা খাতার বিডিও’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন।[TECHTARANGA-POST:9415]এরই মধ্যে, গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে হঠাৎ করেই জাহাঙ্গির খান নিজেকে ভোটের ময়দান থেকে গুটিয়ে নেওয়ায় তৃণমূলের অন্দরে এমনিতেই তীব্র গৃহদাহ ও কোন্দল শুরু হয়েছিল। তার ওপর এই ‘গোপন চ্যাট’ ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।