স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’র হয়ে লড়তেই চাইলেন না আইনজীবীরা! ফলতার বাহুবলী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গিরের ঠাঁই এবার লকআপে
ডায়মন্ড হারবার: সিনেমার পর্দা কাঁপানো সংলাপ ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি’ আউড়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শেষরক্ষা হলো না ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের। বেঙ্গল এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার হওয়া এই বাহুবলী নেতাকে মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এদিনের আদালতের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আইনজীবীদের নজিরবিহীন বয়কট। ডায়মন্ড হারবার ফৌজদারি আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনও আইনজীবীই এদিন এই কুখ্যাত নেতার হয়ে সওয়াল করতে রাজি হননি, যা জাহাঙ্গিরের অহংকারে এক মস্ত বড় ধাক্কা।[TECHTARANGA-POST:9829]মঙ্গলবার ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সন্ত্রাসের একটি পুরনো মামলায় জাহাঙ্গির খানকে কড়া নিরাপত্তার মোড়কে আদালতে তোলে ফলতা থানার পুলিশ। ডায়মন্ড হারবার আদালত চত্বরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আদালতে তোলার পর দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। জাহাঙ্গিরের হয়ে ওকালতনামা সই করতে বা তাঁর পক্ষে দাঁড়াতে সাফ অস্বীকার করেন আদালতের সমস্ত সাধারণ আইনজীবী। শেষমেশ উপায়ান্তর না দেখে জাহাঙ্গির আদালতের কাছে আর্জি জানালে, সরকারি ‘লিগাল এইড’-এর পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী তাঁর হয়ে জামিনের সওয়াল করেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে আদালত সেই জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয়।[TECHTARANGA-POST:9828]আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট, মারধর, সন্ত্রাস ছড়ানো এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক মারাত্মক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং তাঁর সাম্রাজ্যের আরও গোপন তথ্য ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পুলিশ তাঁকে ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। সমস্ত পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক শেষ পর্যন্ত ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।[TECHTARANGA-POST:9827]এই হাইপ্রোফাইল মামলার বিষয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা ডায়মন্ড হারবার আদালতের আইনজীবী দেবাংশু পান্ডা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বিচারক সমস্ত নথিপত্র এবং গুরুতর অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখেই অভিযুক্ত জাহাঙ্গির খানকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। ওঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য অত্যাচার ও ভোট-পরবর্তী হিংসার ভুরি ভুরি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।” এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এতদিন শাসকদলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে বেড়ানো এই নেতার এবার আসল জায়গা অর্থাৎ গারদের ওপারে যাওয়ার সময় এসেছে। আগামী ৫ দিনে পুলিশি জেরা এই বাহুবলীর ডানা কতটা ছাঁটতে পারে, এখন সেটাই দেখার।