ভবানীপুরে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র মেজাজ, বহুত্ববাদের বার্তা নিয়ে বুধে মনোনয়ন পেশ মমতার!
কলকাতা: ২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ লড়াই পৌঁছে গিয়েছে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের দোরগোড়ায়। সৌজন্যে মমতা বনাম শুভেন্দুর ভোট-সংঘাত! ইতিমধ্যেই এই ভবনে নিজের মনোনয়ন জমা করেছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ। তাঁদের নেতৃত্বে এগিয়ে চলা শোভাযাত্রার রং ছিলল গেরুয়া - অর্থাৎ - আগাগোড়া হিন্দুত্বের বার্তা ছিল ভীষণ জোরালো![TECHTARANGA-POST:7883]আর, এবার আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন দলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, তাঁর এই মনোনয়ন পর্ব নিছকই এক আইনি প্রক্রিয়া নয়। বরং, এর মধ্য দিয়ে এক গভীর রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন তিনি![TECHTARANGA-POST:7879]তৃণমূল সূত্রে খবর, মমতার মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকদের তালিকায় থাকছে বড় চমক। ভবানীপুরের ‘কসমোপলিটন’ বা বহুত্ববাদী চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবকদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে পরিচিত ভবানীপুরের সর্বধর্ম সমন্বয়ের ছবিটাই তুলে ধরতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবকদের মধ্যে থাকার কথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম, ব্লক সভাপতি বাবলু সিং এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহের।[TECHTARANGA-POST:7878]ভবানীপুর কেন্দ্রটি আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এখানে বাঙালি ভোটারদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যায় গুজরাতি, পঞ্জাবি, শিখ ও বিহারি গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। বিরোধী শিবিরের (মূলত বিজেপি) ‘মেরুকরণের’ রাজনীতির পাল্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের কেন্দ্রে ‘বহুত্ববাদ’ বা ইনক্লুসিভিটিকে হাতিয়ার করছেন। মমতার মনোনয়ন পেশ ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দীর্ঘ মিছিলেরও আয়োজন করা হচ্ছে। [TECHTARANGA-POST:7869]আগামিকালের এই মেগা মিছিলে মমতার সঙ্গে থাকবেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমারের মতো ওজনদার নেতারা। মিছিলেও যাতে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে দল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের এই লড়াই আসলে দুই আদর্শের সংঘাত - একদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ এবং অন্যদিকে তৃণমূলের বহুত্ববাদী ধর্মনিরপেক্ষতা। বুধবারের এই মনোনয়ন পর্ব সেই সংঘাতেরই এক প্রতীকী সূচনা হতে চলেছে।