ভোট দিলেই হয় চপ-মুড়ি, না হলে আইসক্রিম! নির্বাচনী বিধি শিকেয় তুলে দেদার বিলি ‘উপহার’
গলসি: ছাব্বিশের বিধানসভা যুদ্ধের দ্বিতীয় দফায় এক অদ্ভূত দৃশ্য ধরা পড়ল পশ্চিম বর্ধমানের গলসিতে। রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তির খবরের বদলে এখানে এদিন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল চপ-মুড়ি আর আইসক্রিম! ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরোনোমাত্রই ভোটারদের হাতে কোথাও তুলে দেওয়া হচ্ছে মুড়ির প্যাকেট, আবার কোথাও তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে বিলি করা হচ্ছে ঠান্ডা আইসক্রিম![TECHTARANGA-POST:8547]গলসি বিধানসভার টাটরবাঁধ এবং বৃন্দাবনপুরের ২৬৪ নম্বর বুথ এলাকায় দেখা গেল এই ছবি! প্রান্তিক এই এলাকার ভোটাররা ভোট দিয়ে বুথ থেকে বেরোতেই তৃণমূল সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে মুড়ি, চানাচুর, চপ, ছোলা এবং শসার প্যাকেট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, রোদের তেজ থেকে রেহাই দিতে বিজেপি সমর্থকদের উদ্যোগে বিলি করা হচ্ছে কাঠি আইসক্রিম। এক হাতে মুড়ির ঠোঙা আর অন্য হাতে আইসক্রিম নিয়ে বাড়ি ফিরছেন গ্রামবাসী থেকে শুরু করে প্রবীণ ভোটাররা![TECHTARANGA-POST:8546]এই ঘটনায় নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে কোনও পক্ষেরই বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। আর ভোটারদের একাংশের বক্তব্য হল, তাঁরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই, কেউ কিছু খেতে দিলে তাঁরা তা আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করছেন! স্থানীয় ভোটার মামনি পাতর জানান, “ভোট দিয়ে ফিরছিলাম, তখনই মুড়ি দিল। কেন দিল বা কোন দল দিল, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।”গলসির তৃণমূল প্রার্থী অলোক মাঝি এই বিষয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বলেন, “কারা দিচ্ছে আমি জানি না। তবে, ভোটাররা খুশি হলে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।” একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্রের গলাতেও। তিনি জানান, “দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু দেওয়া হয়নি। তবে, সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য কেউ কিছু করলে তাতে দোষের কিছু নেই।”[TECHTARANGA-POST:8544]ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ঘাম ঝরানোর পর এমন আপ্যায়নে ভোটাররা খুশি হলেও, এই ঘটনা কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট চলাকালীন এমন প্রকাশ্য বিলি-বণ্টন কতটা আইনসম্মত, তা নিশ্চয় খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন!