২৪ ঘণ্টার টানটান নাটক! শুভেন্দুর ‘জেল’ হুঁশিয়ারির পরই অনীতের ইস্তফা, তবে কি এবার পাহাড় কাঁপাবে মেগা তদন্ত?
দার্জিলিং: মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ। কার্শিয়াঙে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জিটিএ-র ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সরব হয়ে চোরদের জেলে ভরার হুঁশিয়ারি দিতেই পদত্যাগ করলেন গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) চিফ এক্সিকিউটিভ অনীত থাপা। [TECHTARANGA-POST:10021]২০২২ সালে এই পদে বসা অনীতের মেয়াদ আরও এক বছর বাকি থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর আর সময় নষ্ট করেননি তিনি। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে গঠিত জিটিএ-কে আর বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে না, তা অনীতের ইস্তফাবার্তাতেই স্পষ্ট। এই চরম নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর থেকেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— তবে কি এবার পাহাড়ে সত্যিই শুরু হতে চলেছে কোনও মেগা দুর্নীতি তদন্ত?ফরাক্কায় একদিনে দুই বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরি, লুঠ প্রায় ২০ ভরি সোনা বুধবার একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান অনীত থাপা। সেখানে তিনি সাফ জানান, রাজ্যে নতুন সরকার আসায় মানুষের আস্থা তাদের প্রতি রয়েছে, কিন্তু এই নতুন প্রশাসন জিটিএ-কে কোনও গুরুত্বই দিতে চাইছে না। ফলে এমন পরিস্থিতিতে পদ আঁকড়ে থাকার কোনও মানে হয় না। তবে ইস্তফা দিলেও তিনি যে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছেন না, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন। অনীতের পাল্টা দাবি, পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান বা স্বতন্ত্র গোর্খ্যাল্যান্ড রাজ্যের বিষয়ে এই নতুন বিজেপি সরকার কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইস্তফা দিয়ে আসলে বল এখন বিজেপির কোর্টেই ঠেলে দিলেন অনীত।[TECHTARANGA-POST:10017]এই ঝড়ের সূত্রপাত অবশ্য মঙ্গলবারই ঘটিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াঙের সভা থেকে জিটিএ-র আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে, যাঁরা পাহাড়ের টাকা লুটেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না এবং তাঁদের জেলের ভিতরে ঢোকানোর কাজ করবে বর্তমান সরকার। যদিও কোন সংস্থাকে দিয়ে এই তদন্ত করানো হবে তা তিনি খোলসা করেননি। এর জবাবে অনীত থাপা অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন যে তদন্তে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই, তবে তা যেন জিটিএ-র সূচনালগ্ন অর্থাৎ ২০১২ সাল থেকে হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অনীত আসলে আঙুল তুলতে চেয়েছেন বিজেপিরই জোটসঙ্গী বিমল গুরুংদের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দিকে, যারা শুরুর দিকে জিটিএ-র ক্ষমতায় ছিল।[TECHTARANGA-POST:10030]অনীত থাপার এই আকস্মিক পদত্যাগকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন দার্জিলিঙের বিজেপি বিধায়ক নোমান। তাঁর মতে, যে সরকারের আমলে এই জিটিএ তৈরি হয়েছিল, সেই জমানা এখন অতীত। নতুন সরকার যখন পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন অনীতের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এক্কেবারে সঠিক। অন্যদিকে, এই সুযোগে অনীতকে তীব্র নিশানা করতে ছাড়েননি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্টের অজয় এডওয়ার্ডসও। ২০১১ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তির পর থেকে পাহাড়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনের মতো ৫৯টি বিভাগের দায়িত্ব সামলানো এই স্বশাসিত সংস্থার ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, এবং শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি মিলিয়ে সত্যি সত্যিই কোনও বড়সড় দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।