হজে যেতে গুণতে হবে অতিরিক্ত টাকা! ‘জিজিয়া’ করের ধাঁচে কেন্দ্রের নতুন ফরমান? তুঙ্গে বিতর্ক
নয়াদিল্লি: পবিত্র হজ যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা খেলেন পুণ্যার্থীরা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। চলতি বছরের হজে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পুণ্যার্থীকে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হজ কমিটি। আগামী ১৫ মে-র মধ্যে এই অর্থ জমা না দিলে বিপাকে পড়তে পারেন যাত্রীরা। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে বিরোধী শিবির এবং বহু ধর্মীয় সংগঠন মুঘল আমলের ‘জিজিয়া’ করের সঙ্গে তুলনা করে সরব হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8651]কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার (বিশেষত ইরান ও ইজরায়েল সংঘাত) অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের জ্বালানির (ATF) দাম আকাশছোঁয়া। এর ফলে উডান সংস্থাগুলি যাত্রী পিছু ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেছিল। তবে, কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে সেই অঙ্ক কমিয়ে ১০০ ডলারে (প্রায় ১০,০০০ টাকা) আনা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, স্বচ্ছতার স্বার্থেই এই ‘অনিবার্য’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে হজ ২০২৬-এর প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।[TECHTARANGA-POST:8653]কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী এই পদক্ষেপকে ‘অবিচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, যাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে কেন এই বোঝা চাপানো হল? এআইএমআইএম প্রধান আসাউদ্দিন ওয়েইসি একে ‘শোষণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, মুম্বই থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৯০,৮৪৪ টাকা জমা নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ টিকিটের ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ। এরপর আবার ১০,০০০ টাকার দাবি পুণ্যার্থীদের উপর চরম জুলুম।[TECHTARANGA-POST:8652]বহু ইসলামি সংগঠন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষের তীর্থযাত্রার উপর এভাবে শেষ মুহূর্তে বাড়তি কর বা ফি চাপানো কার্যত মধ্যযুগীয় ‘জিজিয়া’ করের আধুনিক সংস্করণ। তাঁদের মতে, বহু মানুষ সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে হজে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এই আকস্মিক ঘোষণা তাঁদের সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। উত্তর-পূর্ব ভারতের হজ কমিটিগুলিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, অনেকে ইতিমধ্যে মক্কায় পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁদের পক্ষে এখন অনলাইনে টাকা জমা দেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব।[TECHTARANGA-POST:8645]সব মিলিয়ে, জ্বালানির দামের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রের এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নির্দেশ এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।