ভোটের মুখে উত্তপ্ত হরিণঘাটা, গ্রেফতার তৃণমূলের দাপুটে কাউন্সিলর
হরিণঘাটা: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে! শুক্রবার সকালে নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজীব দালালকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিনা নোটিসে এই আকস্মিক গ্রেফতারি ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কল্যাণী থানা চত্বর। পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক চক্রান্ত।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত হয় হরিণঘাটা বিধানসভাকেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসের মনোনয়ন জমা দেওয়া কেন্দ্র করে। অভিযোগ, মনোনয়ন দাখিলের দিন রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন কাউন্সিলর রাজীব দালাল। সরকারি কাজে বাধা ও অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে কল্যাণী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতেই এদিন সকালে রাজীবের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।[TECHTARANGA-POST:8117]রাজীবের স্ত্রী সুজাতা দালাল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁর দাবি, কোনও আগাম নোটিস বা পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ বাড়িতে চড়াও হয়। তল্লাশির সময় রাজীব বাড়িতে না থাকলেও ঘরদোর ও আনাচে-কানাচে নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করা হয়। পরিবারের মতে, ভোটের ঠিক আগে দলের সক্রিয় নেতাকে কোণঠাসা করতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কাউন্সিলরের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কল্যাণী থানার সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার সামনে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়।[TECHTARANGA-POST:8115]এদিনই ধৃত কাউন্সিলরকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নদিয়ার রাজনীতিতে এই গ্রেফতারি এক নতুন মোড় এনে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলা নেতৃত্ব।