‘চিকিৎসা করবে কে?’ বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে গিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ডাক্তার-বিধায়ক, রাতেই আরজি করে স্বাস্থ্যসচিব
কলকাতা: বঙ্গে পালাবদলের পর রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন বিজেপি সরকার। আর এই লক্ষ্যেই রবিবার ছুটির দিনে বেহালার বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিলেন বেহালা পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক তথা পেশায় চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ। হাসপাতালের এমএসভিপি (MSVP)-র সঙ্গে দেখা করে সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পর কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। সামান্য হার্টের সমস্যা কিংবা পথ দুর্ঘটনায় জখম রোগীদেরও প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার অন্য হাসপাতালে ‘রেফার’ করে দেওয়ার চেনা রোগ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন বিধায়ক।[TECHTARANGA-POST:9216] তিনি স্পষ্ট জানান, বিদ্যাসাগর হাসপাতালে হৃদরোগের মতো জরুরি চিকিৎসার কোনও আধুনিক ব্যবস্থাই নেই, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই হাসপাতালের সুব্যবস্থা হলে বেহালা ছাড়াও আমতলা, বজবজ, মহেশতলার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। তাই বিদ্যাসাগর হাসপাতালকে যাতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘মাল্টিস্পেশ্যালিটি’ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেই বিষয়ে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন।[TECHTARANGA-POST:9213]মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এসএসকেএম হাসপাতাল পরিদর্শন করে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের অযথা রেফার করার দাদাগিরি আর বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সুর টেনেই বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ আজ মনে করিয়ে দেন, নতুন সরকারের কাছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে গজিয়ে ওঠা সব ধরণের সিন্ডিকেট রাজ এবং অবৈধ কাজকর্ম অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য পুলিশকে কড়া নির্দেশ দেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9211]রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির হাল হকিকত বুঝতে শুধু বিধায়করাই নন, সক্রিয় হয়েছেন শীর্ষ আমলারাও। গত শনিবার গভীর রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ কলকাতার বেশ কয়েকটি বড় সরকারি হাসপাতাল আচমকা পরিদর্শনে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। মাঝরাতেই তিনি হাসপাতালের শীর্ষ আধিকারিক ও চিকিৎসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন এবং রোগী পরিষেবার মান খতিয়ে দেখেন। সব মিলিয়ে, রেফার-সংস্কৃতি ও দালাল রাজ নির্মূল করে আমজনতার জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এখন রাজ্যজুড়ে চরম তৎপরতা স্বাস্থ্য দফতরে।