ইরানের ‘হরমুজ়’ চালে অবরুদ্ধ বিশ্ববাণিজ্য! ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম, অশনি সংকেত ভারতের কপালে
নয়াদিল্লি ও তেহরান: আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় আঘাত হানল তেহরান। নিজেদের পুরনো রণকৌশলকে হাতিয়ার করে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ় প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্যবাহী জাহাজ ও জ্বালানি তেল চলাচল থমকে গিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেলের দামে। হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের আন্তর্জাতিক দর, যা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় নয়াদিল্লি।[TECHTARANGA-POST:6885]ব্রিটিশ সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ় প্রণালীতে দু’টি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর হামলা হয়েছে এবং একটি জাহাজের খুব কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পথ দিয়ে তারা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে না। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সরু জলপথটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর; যার একদিকে ইরান এবং অন্যদিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি অবস্থিত।[TECHTARANGA-POST:6883]হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৬.১৬ ডলার। আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত বাজারেও তেলের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯.৬৭ ডলারে ঠেকেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট রপ্তানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।[TECHTARANGA-POST:6876]ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ আমদানি করে এই হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করে। ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়েই ভারতে পৌঁছায়। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ মেয়াদে এই পথ বন্ধ থাকলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্রের দাবি, দেশে আপাতত বেশ কয়েকদিনের তেল মজুত রয়েছে, তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতকে দ্রুত বিকল্প পথ বা উপায়ের কথা ভাবতে হবে।[TECHTARANGA-POST:6883]পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে কোন খাদের কিনারায় নিয়ে যায়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।