Hidden Stories (বাংলা)

পারদ ছুঁল ৪৮ ডিগ্রি, বিদ্যুতের চাহিদায় বিশ্বরেকর্ড ভারতে! তবে কি এবার অন্ধকারে ডুববে দেশ?

নয়াদিল্লি: তীব্র দাবদাহ আর তাপপ্রবাহে পুড়ছে গোটা দেশ। বিশেষ করে উত্তর ভারতের দিল্লি, ফরিদাবাদের মতো এলাকাগুলোতে পারদ ইতিমধ্যেই ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে কোথাও কোথাও ৪৮ ডিগ্রির কোঠায় পৌঁছে গিয়েছে। সকাল হতেই চড়া রোদ আর লু-এর দাপটে সাধারণ মানুষের বাইরে বেরনোই এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। [TECHTARANGA-POST:9322]পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা সম্প্রতি একটি রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে— বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ ১০০টি শহরের সব ক’টিই এখন ভারতে! আর এই তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে দিন-রাত একটানা এসি, কুলার ও ফ্যান চলায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। বুধবারই দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ২৬৫ গিগাওয়াট অতিক্রম করে এক নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে, যা গত মঙ্গলবারও ছিল ২৬০.৪৫ গিগাওয়াট। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে যেভাবে চাহিদা ২৫২ থেকে একলাফে ২৬৫ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, তাতে গ্রিডের ওপর তৈরি হয়েছে মারাত্মক চাপ। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— চাহিদার এই সুনামি কি ডেকে আনবে বড়সড় বিদ্যুৎ সংকট? বাড়বে কি লোডশেডিং?[TECHTARANGA-POST:9311]হিসেব বলছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধির গ্রাফটা সত্যিই উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ২৫০ গিগাওয়াট, আর ২০২৫ সালে আগেভাগে বর্ষা আসায় তা ২৪২-২৪৩ গিগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এই চলতি গ্রীষ্মে গত বছরের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা একধাক্কায় ২০ গিগাওয়াটেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। শুধু দিনের বেলাই নয়, রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিক রকম বেশি থাকায় মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে এখন একটানা এসি চালানোর ধুম পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে বুধবার দুপুরে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ৮,০৩৯ মেগাওয়াটে পৌঁছে ইতিহাস তৈরি করেছে। এর ওপর আবার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। দূষণ ও জ্বালানি বাঁচাতে সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর জোর দিলেও, হাজার হাজার ই-বাহন চার্জ হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9307]তবে কি আগামী দিনে ব্ল্যাকআউটের পথে হাঁটবে দেশ? আশার কথা শুনিয়ে কেন্দ্র অবশ্য জানিয়েছে, রেকর্ড চাহিদা সত্ত্বেও ভারতের পাওয়ার গ্রিড এখনও পর্যন্ত দেশব্যাপী বড় কোনও বিপর্যয় বা ঘাটতি ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ কয়লা সংকটের তুলনায় বর্তমানে দেশে কয়লার মজুত যথেষ্ট শক্তিশালী, যা ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি জোগান দেয়। এছাড়া দিনের বেলার পিক-আওয়ারে ত্রাতা হয়ে উঠছে সৌরশক্তি। তবে আসল পরীক্ষা শুরু হচ্ছে সূর্যাস্তের পর, কারণ ভারতে এখনও ব্যাটারি স্টোরেজ পরিকাঠামো সীমিত হওয়ায় সন্ধ্যার আকাশছোঁয়া চাহিদা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে আবহাওয়া দফতর উত্তর ভারতের একাধিক জায়গায় হলুদ সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে গরম আরও বাড়বে। ফলে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ যদি চলতেই থাকে, তবে আগামী দিনে চাহিদার পারদ আরও চড়বে এবং রাতের দিকে ঘাটতি তৈরি হলে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।#Heatwave2026 #IndiaPowerDemand #PowerCrisis #GlobalWarming #DelhiHeat #ElectricityShortage #Summer2026

পারদ ছুঁল ৪৮ ডিগ্রি, বিদ্যুতের চাহিদায় বিশ্বরেকর্ড ভারতে! তবে কি এবার অন্ধকারে ডুববে দেশ?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার