জেলে শাহজাহানদের স্মার্টফোন-রাজ! সুপার সাসপেন্ড, সিআইডি তদন্তে শুভেন্দু
কলকাতা: সংশোধনাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে বসেও দিব্যি চলছিল অপরাধের সাম্রাজ্য ও দুর্নীতির নেটওয়ার্ক। প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি শাহজাহান শেখদের মতো হাইপ্রোফাইল অপরাধীদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহে এবার বেনজির অ্যাকশন নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলের এই ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে শুক্রবার বিধানসভা থেকে সোজা নবান্নে পৌঁছে এক হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করেন তিনি। কর্তব্যে গাফিলতি ও অপরাধে মদত দেওয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কার নামে ওই সিমকার্ডগুলি তোলা হয়েছিল এবং কঠোর নিরাপত্তা টপকে জেলের ভেতরে কীভাবে মোবাইল ফোনগুলি এল, তার শিকড় খুঁজতে ইতিমধ্যেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:9165]সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের পরোক্ষ সহযোগিতা কিংবা চরম উদাসীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে অপরাধীরা জেলের ভেতর থেকে অবাধে নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের ডিসি সাউথের যৌথ নেতৃত্বে প্রেসিডেন্সি জেলে ঝটিকা তল্লাশি চালিয়ে একাধিক স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি, দমদম থেকে বহরমপুর— রাজ্যের একাধিক সংশোধনাগারে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্নীতি ও অপরাধের আঁতাত ভাঙতে কিছুটা সময় লাগলেও কাউকেই রেয়াত করা হবে না। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে শাহজাহানদের মতো দাগী আসামিদের অবিলম্বে আলাদা সেলে সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, কর্তব্যে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধী নয়, অপরাধের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও সমভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।