৪ বছর ধরে গণধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল! দিদির আত্মহত্যার ২ মাস পর বিষ খেলেন বোনও, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় অগ্নিগর্ভ জোধপুর
জোধপুর: ৪ বছর ধরে লাগাতার গণধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল এবং লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়! অবশেষে বিচার না পেয়ে এবং লোকলজ্জার ভয়ে মৃত্যুর পথ বেছে নিলেন দুই বোন। গত মার্চ মাসে দিদির আত্মহত্যার পর, এবার দু’মাসের মাথায় বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন বোনও। নৃশংস ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জোধপুরের একটি গ্রামে। শুক্রবার ঘর থেকে ছোট বোনের মৃতদেহ উদ্ধার হতেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কাঠগড়ায় উঠেছে স্থানীয় পুলিশের চরম নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা, যার জেরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ইতিমধ্যেই থানা ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেছেন।[TECHTARANGA-POST:9217]নির্যাতিতাদের পরিবারের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে, এই ভয়ঙ্কর ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় একটি ‘ই-মিত্র’ সার্ভিস সেন্টার থেকে। ওই সেন্টারেরই এক কর্মী প্রথমে বাড়ির বড় বোনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ক্যামেরাবন্দি করে। এরপর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিগত ৪ বছর ধরে ওই কর্মী এবং তার সঙ্গীরা মিলে তরুণীকে লাগাতার গণধর্ষণ করে আসছিল। শুধু তাই নয়, ভিডিওর নাম করে তাঁর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও ব্ল্যাকমেল করে হাতিয়ে নেওয়া হয়। দিনের পর দিন এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং পুলিশের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা না পেয়ে গত ২০ মার্চ প্রথম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বড় বোন।[TECHTARANGA-POST:9216]দিদির মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। সুবিচারের আশায় বাড়ির ছোট বোন পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং আট জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেন। এমনকি পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে থানার সামনেই আত্মঘাতী হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, এফআইআর দায়ের হলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করেনি। উল্টে জামিনে বা আড়ালে থেকে অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে ক্রমাগত হুমকি দিতে শুরু করে। অভিযোগ আরও ভয়ঙ্কর, দিদির মতো ছোট বোনকেও আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয় এবং তাঁরও ভিডিও তুলে নতুন করে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করে ওই অপরাধীরা। শেষমেশ পুলিশের দরজায় দরজায় ঘুরেও যখন কোনও বিচার মিলল না, তখন চরম অবসাদে শুক্রবার বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন ছোট বোনও। দুই বোনের এই মর্মান্তিক পরিণতির পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষী পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি এবং মূল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে জোধপুরের ওই গ্রামীণ থানা চত্বর এখন কার্যত রণক্ষেত্র।