কাঁকসা: যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের জমানায় স্রেফ আন্দোলন করার অপরাধে যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল, তাঁদের সসম্মানে কাজে ফেরানো হবে। অবশেষে সেই কথা রাখলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের নির্বাসন ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কাঁকসা বিডিও অফিসে পুনরায় কাজে যোগ দিলেন অভয়ার ন্যায়বিচার এবং ব সরকারি কর্মীদের ডিএ-র অধিকার নিয়ে সরব হওয়া আন্দোলনকারী কর্মচারী শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি অফিসে পৌঁছতেই সহকর্মী এবং যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের সদস্যরা ফুলের মালা ও করতালির মাধ্যমে তাঁকে এক আবেগঘন রাজকীয় সংবর্ধনা জানান। শুভঙ্করের এই সসম্মান প্রত্যাবর্তন গ্রামীণ বাংলার সরকারি কর্মীদের মনোবল এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9746]বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে আরজিকর-কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং ডিএ আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকার কারণে চরম প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছিল শুভঙ্করকে। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসা বিডিও অফিসে পুনরায় নিজের চেয়ারে বসার পর আবেগ ও ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "আমি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনও আন্দোলন করিনি। রাজ্যের লাখ লাখ কর্মচারীর অধিকার এবং অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতেই পথে নেমেছিলাম। তার জন্য গত দু’বছরে অনেক অত্যাচার, অপমান এবং প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু অন্যায়ের সামনে কখনও মাথা নত করিনি। আজ কাজে ফিরতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।" স্বামীর এই ঐতিহাসিক জয়ে চোখে জল শুভঙ্করের স্ত্রী চৈতি বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি জানান, এই দীর্ঘ লড়াইয়ে পরিবারকে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে হলেও তাঁদের বিশ্বাস ছিল যে শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হবেই।[TECHTARANGA-POST:9739]চাকরিতে পুনর্বহাল হওয়ার আনন্দের মাঝেও প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্ত একাংশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চেয়ার ফিরে পেলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আদর্শগত লড়াই কোনওভাবেই থামবে না। বিস্ফোরক সুরে তিনি বলেন, "অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম বলেই বিগত সরকারের পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করেছিল। আজ একটা কথা স্পষ্ট বলা দরকার, এই রাজ্যে নেতা-মন্ত্রীরা যতটা দুর্নীতিগ্রস্ত, ঠিক ততটাই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকদের একটা বড় অংশ। কিন্তু কর্মচারীদের সঙ্গে লড়াই করে কোনও সরকার যে বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না, বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনই তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের দাস নই, আমরা সরকারি কর্মচারী। তাই আগামী দিনেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়াই জারি থাকবে।" শুভঙ্করের এই তেজস্বী প্রত্যাবর্তন নতুন মহাকরণেও এক বড় বার্তা দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার