রকেট গতিতে সিটের অ্যাকশন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জালে বারুইপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার
বারুইপুর: বদলের বাংলায় নারী সুরক্ষায় নজিরবিহীন তৎপরতা পুলিশের। বারুইপুরে নাবালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই রকেট গতিতে অ্যাকশন নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দার নামে ওই মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। এই নিয়ে নৃশংস এই ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।'তৃণমূলের প্রতিচ্ছবি নয়, আলাদা পরিচয় গড়তে হবে'— সুকান্তরবিবার সকাল থেকেই পুকুর থেকে নাবালিকার নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারুইপুরের ধপধপি এলাকা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেহ রাস্তায় রেখে চলে পথ অবরোধ, স্তব্ধ হয়ে পড়ে রেল পরিষেবাও। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দ্রুত সুবিচারের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পরেই বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। [TECHTARANGA-POST:10639]সিট ও এসটিএফের যৌথ তৎপরতাতেই সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার থেকে জালে ওঠে মূল চক্রী আনন্দ সর্দার। ধৃতকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে জেরা করে এই নৃশংসতার নেপথ্যে থাকা বাকিদেরও মুখোশ টেনে খোলা যায়। অন্যদিকে, নাবালিকার ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মিলেছে ভয়াবহ ইঙ্গিত। জানা গিয়েছে, পাশবিক যৌন নির্যাতনের পর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে।গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ভিজছে বাংলা, সবচেয়ে বেশি প্রভাব কোথায়? [TECHTARANGA-POST:10604]এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলও। সোমবারই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ধপধপিতে পৌঁছয় তৃণমূলের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দোলা সেনের নেতৃত্বে সেখানে যান জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবং বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছিয়ে ছিল না বামেরাও; সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সিপিএমের একটি প্রতিনিধি দলও এদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত ও কঠোরতম শাস্তির দাবি জানায়। সব মিলিয়ে, বারুইপুর কাণ্ডে যেমন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, তেমনই পুলিশের এই সুপারফাস্ট অ্যাকশনে অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তির আশায় বুক বাঁধছে নির্যাতিতার পরিবার ও এলাকাবাসী।