অপেক্ষার অবসান! আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, হুড়মুড়িয়ে রাজ্যে ঢুকছে বর্ষা, দক্ষিণবঙ্গে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব
কলকাতা: অবশেষে তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের দিন ফুরনোর পালা। বাঙালিকে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় রেখে অবশেষে বঙ্গে পা রাখতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী মাত্র দুই দিনের মধ্যেই উত্তরবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করতে চলেছে বর্ষা। যার জেরে গত কয়েকদিন ধরে চলা প্রাক-বর্ষার স্বস্তির বৃষ্টি এবার আরও জাঁকিয়ে বসবে। তবে শুধু বর্ষার সুখবরই নয়, একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ধেয়ে আসছে তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা জারি করেছেন আবহাওয়াবিদরা।[TECHTARANGA-POST:9815]আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিকতম বুলেটিন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কেরলে সফলভাবে বর্ষা ঢুকে পড়েছে। শুধু তাই নয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরামের সম্পূর্ণ এলাকা ছাড়াও অরুণাচল প্রদেশ, অসম ও ত্রিপুরার একটা বড় অংশে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে মৌসুমি বায়ু। এই অনুকূল পরিস্থিতির জেরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা এবং সিকিমে বর্ষা ঢুকে পড়বে। এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও একই সঙ্গে বর্ষার আগমন ঘটতে চলেছে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করেছে এ রাজ্যে, যা বর্ষার পথকে আরও প্রশস্ত করে তুলেছে।[TECHTARANGA-POST:9814]বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশের আগেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, চলতি সপ্তাহজুড়ে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং তীব্র ঝড়ের দাপট জারি থাকবে। এই সময় পাহাড় ও সমতলে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে আজ থেকেই অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে নেই পাহাড়ও, দার্জিলিং এবং কালিম্পঙেও আগামী কয়েকদিন টানা ভারী বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধেয়ে আসছে ৬০ কিমি বেগের কালবৈশাখী[TECHTARANGA-POST:9813]উত্তরবঙ্গে যখন বর্ষার আগমনী সুর, তখন দক্ষিণবঙ্গের কপালে রয়েছে কালবৈশাখীর চাবুক। আলিপুর জানাচ্ছে, আজ মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবে। আজ ঝড়-বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই বর্ধমান এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। তবে আসল তাণ্ডব শুরু হবে আগামীকাল বুধবার থেকে, যখন ঝড়ের তীব্রতা আরও বাড়বে। পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের জেরে সাময়িক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও, ভ্যাপসা গরম উধাও হয়ে আবহাওয়া যে এক ধাক্কায় মনোরম হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।