Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সমুদ্রে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, জেলায় জেলায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি! আজই কি তবে আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন?

সমুদ্রে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, জেলায় জেলায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি! আজই কি তবে আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন?
ছবি--প্রতীকী

কলকাতা: তাপপ্রবাহের অস্বস্তির মাঝেই এবার রাজ্যের আবহাওয়ায় এক মারাত্মক ওলটপুরাণ ঘটতে চলেছে। দক্ষিণ বিহারের ওপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং তা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার জেরে তোলপাড় হতে চলেছে বাংলার আবহাওয়া। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র মারাত্মক উত্তাল থাকবে বলে হাওয়া অফিসের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ২৮ ও ২৯ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কারণ এই দুই দিন উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকলেও, বিকালের পর থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল হতে পারে। আজই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সবথেকে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়। বাকি জেলাগুলিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও আংশিক মেঘলা আকাশ ও দমকা হাওয়ার কারণে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে আসল তাণ্ডব শুরু হবে বুধবার থেকে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির দাপট মারাত্মকভাবে বাড়বে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলায় ধেয়ে আসতে পারে তীব্র কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি।


দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্যও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। একই সাথে দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও দক্ষিণ দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িতে দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি এবং বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তবে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড়ের দাপট আবার বাড়বে, বিশেষ করে মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে।


হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবারেও অর্থাৎ ৩০ মে এই সমস্ত এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে। তবে সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ রবিবার থেকে গোটা রাজ্যের আবহাওয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করবে। শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়ের দাপট কমে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। দক্ষিণবঙ্গেও রবিবারের পর থেকে মেঘ কেটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোবে। ফলে আগামী চার-পাঁচ দিন ওড়িশা ও বাংলার উপকূলবর্তী মানুষ এবং চাষীদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

বিষয় : WestBengalWeather KOLKATAWEATHER RAINALERT kalboishakhi

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সমুদ্রে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, জেলায় জেলায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি! আজই কি তবে আবহাওয়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তাপপ্রবাহের অস্বস্তির মাঝেই এবার রাজ্যের আবহাওয়ায় এক মারাত্মক ওলটপুরাণ ঘটতে চলেছে। দক্ষিণ বিহারের ওপর তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং তা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার জেরে তোলপাড় হতে চলেছে বাংলার আবহাওয়া। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র মারাত্মক উত্তাল থাকবে বলে হাওয়া অফিসের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষার স্বার্থে আগামী ২৮ ও ২৯ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কারণ এই দুই দিন উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম বর্ধমানে গরমের অস্বস্তি বজায় থাকলেও, বিকালের পর থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল হতে পারে। আজই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সবথেকে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়। বাকি জেলাগুলিতে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও আংশিক মেঘলা আকাশ ও দমকা হাওয়ার কারণে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। তবে আসল তাণ্ডব শুরু হবে বুধবার থেকে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির দাপট মারাত্মকভাবে বাড়বে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলায় ধেয়ে আসতে পারে তীব্র কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি।দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্যও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। একই সাথে দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও দক্ষিণ দিনাজপুর ও জলপাইগুড়িতে দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি এবং বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তবে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঝড়ের দাপট আবার বাড়বে, বিশেষ করে মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছে যেতে পারে।হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবারেও অর্থাৎ ৩০ মে এই সমস্ত এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে। তবে সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ রবিবার থেকে গোটা রাজ্যের আবহাওয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করবে। শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়ের দাপট কমে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হবে। দক্ষিণবঙ্গেও রবিবারের পর থেকে মেঘ কেটে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোবে। ফলে আগামী চার-পাঁচ দিন ওড়িশা ও বাংলার উপকূলবর্তী মানুষ এবং চাষীদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার