নীল-সাদা বিদায়, এবার কি দুর্গাপুজোয় গৈরিক দাপট? অরূপ-দেবাশিসদের জায়গায় কারা পাচ্ছেন বড় দায়িত্ব?
কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আঙিনায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির জয়ের পর কলকাতার হেভিওয়েট পুজো কমিটিগুলির অন্দরে শুরু হয়েছে খোলনলচে বদলের তোড়জোড়। যেসব পুজোর ফ্লেক্স বা ব্যানারে এত দিন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের নাম দেখা যেত, সেখানে এবার জায়গা করে নিতে চলেছেন বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা।[TECHTARANGA-POST:8883]টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। এর ফলে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত পুজো ‘নেতাজি জাতীয় সেবাদল’-এর চিত্রটাও বদলাতে চলেছে। পুজোর সভাপতি কৌশিক বণিক জানিয়েছেন, প্রথা মেনে তাঁরা নতুন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে পুজোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন।[TECHTARANGA-POST:8882]একই ছবি রাসবিহারী ও কাশীপুর-বেলগাছিয়াতেও। রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমারের পরাজয়ের পর দেশপ্রিয় পার্কের মতো বড় পুজোর আহ্বায়ক বা ফ্লেক্সে এবার স্বপন দাশগুপ্তর নাম দেখার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে, টালা প্রত্যয় এবং কাশী বোস লেনের মতো শতাব্দীপ্রাচীন পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অতীন ঘোষ। কিন্তু, তিনি পরাজিত হওয়ায় এবার সেই জায়গা নিতে চলেছেন বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি।[TECHTARANGA-POST:8879]পুজো কর্তাদের মতে, উৎসব সফলভাবে পরিচালনা করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাহায্য অপরিহার্য। টালা প্রত্যয়ের সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষের কথায়, "প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পাবলিক জব করা সম্ভব নয়। বিধায়ক যে দলেরই হোন, তাঁর সাহায্য আমাদের প্রয়োজন।" একই সুর শোনা গেছে কাশী বোস লেনের সোমেন দত্তর গলায়। তিনি মনে করেন, কুর্সিতে যেই বসুন না কেন, উৎসবের রং চিরকালই আনন্দের। তবে, জনপ্রতিনিধির অংশগ্রহণ সেখানে আবশ্যিক।[TECHTARANGA-POST:8875]কলকাতার দুর্গাপুজোর ময়দান মানেই ছিল সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস বা ফিরহাদ হাকিমদের একচেটিয়া দাপট। কিন্তু, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় অনেক ক্লাবই এখন নিজেদের ফ্লেক্স বদল এবং কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বৈঠক ডাকতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, উৎসবের আঙিনায় এই ‘গৈরিকীকরণ’ আদতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলেরই প্রতিফলন।