কলকাতা: পাটুলির বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত কিংবা জোড়াসাঁকোর মহম্মদ জসিমউদ্দিন— একের পর এক কাউন্সিলর গ্রেফতার হতেই কলকাতার রাজপথে যেভাবে ডিম হাতে ক্ষুব্ধ জনতা ও বিরোধী কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তার আঁচ এবার এসে পড়ল স্বয়ং ইএম বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে। [TECHTARANGA-POST:9792]পচা ডিমের আতঙ্কে এবং চরম জনরোষের আশঙ্কায় আজ, রবিবার বিকেলের পূর্বনির্ধারিত মেগা কাউন্সিলর বৈঠক তড়িঘড়ি বাতিল করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক নেতার কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ দলের জনপ্রতিনিধিরাই এখন রাস্তায় বেরোতে বা দলীয় কার্যালয়ে আসতে চরম আতঙ্ক প্রকাশ করছেন। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে মুখরক্ষা করতে এবার কোনো এক অজ্ঞাত বা গোপন জায়গায় কাউন্সিলরদের ডেকে নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য গোপনে সই করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জোড়াফুল শিবির।[TECHTARANGA-POST:9795]তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, আজ বিকেল সাড়ে তিনটেয় তৃণমূল ভবনে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু গোয়েন্দা ও দলীয় সূত্রে খবর আসে, বৈঠক চলাকালীনই তৃণমূল ভবনের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে পারে বিজেপি এবং পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে সাধারণ মানুষ কাউন্সিলরদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুড়তে পারেন। এই খবর চাউর হতেই পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর বৈঠকে যোগ দিতে তীব্র অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং উচ্চ নেতৃত্বকে জানান যে এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে আসা তাঁদের পক্ষে নিরাপদ নয়। এর পরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, দু-একদিন পরেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে তাঁর দিল্লি উড়ে যাওয়ার কথা। তার আগে কলকাতার বুকে তৃণমূল ভবনে বা কাউন্সিলরদের গায়ে ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটলে তা জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত খারাপ ‘বিজ্ঞাপন’ তৈরি করবে। আর সেই কারণেই সবদিক বিচার করে তড়িঘড়ি বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9793]এদিকে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে তিলোত্তমার ‘ছোট লালবাড়ি’। কলকাতা পুরসভায় তৈরি হয়েছে চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, কেন বর্তমান পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে পুরসভাকে, যার জবাব দিতে হবে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে। এই আইনি ও প্রশাসনিক খাঁড়া থেকে বাঁচতেই দ্রুত নতুন মেয়র বসানোর তোড়জোড় শুরু করেছে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, ফের একবার কলকাতার মহানাগরিকের আসনে ফেরানো হতে পারে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। তবে সেই লক্ষ্যেই আজ বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও ডিম-আতঙ্কে তা ভেস্তে গেল। আপাতত জনসমক্ষে না এসে কোনো গোপন ডেরাতেই কাউন্সিলরদের থেকে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে কালীঘাট।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার