মদের দোকানে শুভেন্দুর ‘বুলডোজার’ আতঙ্ক! স্কুল-মন্দিরের কাছে আর মিলবে না মদ? নয়া ফরমান জারি মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতায় বসার পরই সুরাপ্রেমী এবং মদের দোকানদারদের জন্য এক বিরাট ও কঠোর পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার। এবার থেকে আর যেখানে-সেখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠতে পারবে না মদের দোকান। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়-সহ যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকান রাখা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। নতুন সরকারের এই কড়া অবস্থান সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে মদের ব্যবসার লাইসেন্স ও দোকানগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9522]যত্রতত্র মদের দোকান খোলা নিয়ে বিগত দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। কখনও ব্যস্ত রাস্তার ওপর মদের দোকানের সামনে সুরাপ্রেমীদের লম্বা লাইনের জেরে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধা সৃষ্টি হতো, আবার কখনও মদের দোকানের কারণে এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠত অহরহ। এমনকি মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সুরার দোকান থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছিল তীব্র ধর্মীয় ও সামাজিক বিতর্ক। এই সমস্ত বিশৃঙ্খলাকে এক লহমায় বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, তাঁর সরকার সম্পূর্ণ অন্য নিয়মে চলবে। এতদিন রাজ্যে শাসকের আইন চললেও, এবার থেকে এখানে কঠোরভাবে ‘আইনের শাসন’ কায়েম করা হবে।[TECHTARANGA-POST:9521]নতুন এই নির্দেশিকার পর সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে যে, নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে তো দূরত্ব মানা বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কিন্তু স্কুল, কলেজ বা মন্দিরের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত মদের দোকান রমরমিয়ে চলছে, সেগুলির ভবিষ্যৎ কী? যদিও প্রশাসনের তরফ থেকে সেই পুরনো দোকানগুলি ভেঙে ফেলা বা স্থানান্তরিত করার বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ‘বুলডোজার অপারেশন’ নতুন করে আশঙ্কার আলোড়ন তৈরি করেছে। ক্ষমতায় এসেই যেভাবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে নবান্ন কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাতে বহু লাইসেন্সহীন ও অবৈধ মদের দোকান যে এবার সরাসরি বুলডোজারের মুখে পড়তে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত। সরকারের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের অভিভাবক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজ।