সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস? রোস্টার ও বায়োমেট্রিকে ডাক্তারদের বাঁধল শুভেন্দু সরকার!
কলকাতা: সরকারি হাসপাতালের ডিউটি চলাকালীন ডাক্তারবাবু উধাও, আর স্ট্রেচার টানতে হচ্ছে রোগীর পরিবারকেই— বিগত জমানার এই চেনা ছবি এবার অতীত হতে চলেছে বাংলায়। রাজ্যে পালাবদলের পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমূল বদলে ফেলতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার।[TECHTARANGA-POST:9292] সোমবার রাতে আর জি কর, এসএসকেএম, এনআরএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য ভবনের শীর্ষ কর্তারা। আর সেই বৈঠকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সরকারি ডিউটির নির্ধারিত সময়ে কোনো চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বা ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এবার থেকে কোন হাসপাতালে, কোন চিকিৎসক, ঠিক কখন ডিউটি করছেন— তার নিখুঁত অগ্রিম রোস্টার প্রতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে সরাসরি স্বাস্থ্য ভবনে পাঠাতে হবে। রোস্টার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কোনো চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কড়া আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।[TECHTARANGA-POST:9290]হাজিরার সমস্ত রকম কারচুপি ও ছলচাতুরি রুখতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী— সকলের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাটেনড্যান্স বাধ্যতামূলক করল স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে এখানেই শেষ নয়, সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের হয়রানি এবং দালাল রাজ বন্ধ করতে ২৪ ঘণ্টার জন্য বসানো হচ্ছে বিশেষ নজরদারি ক্যামেরা। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ক্যামেরার কোনো নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে না, সরাসরি স্বাস্থ্য ভবন থেকে প্রতি মুহূর্তের লাইভ মনিটরিং করা হবে।[TECHTARANGA-POST:9279] পাশাপাশি, জরুরি বিভাগে পরিষেবার মান বাড়াতে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য একজন অতিরিক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদমর্যাদার সিনিয়র চিকিৎসককে মোতায়েন রাখার নয়া নিয়ম চালু হচ্ছে। এছাড়া, মর্গে ময়নাতদন্ত নিয়ে টাকা লেনদেনের যেকোনো অভিযোগে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে সিভিল ড্রেসে পুলিশি টহলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পূর্ব ঘোষণা মতোই, সরকারি স্ট্যাম্প যুক্ত বিশেষ পরিচয়পত্র ছাড়া এখন থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে চলেছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এই মেগা সংস্কার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটা কমাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।