হরমুজ পেরিয়ে ভারতের পথে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’! কাটছে এলপিজি সঙ্কট?
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় চরম যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর। গত কয়েক দিন ধরে টানাপড়েনের পর অবশেষে হরমুজ় প্রণালীর বাধা কাটিয়ে ভারতের অভিমুখে রওনা হয়েছে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (SCI)-র দু’টি বিশালাকার এলপিজিবোঝাই জাহাজ - ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরেই এই জট কেটেছে বলে জানা গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7298]গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজ়রায়েল-আমেরিকার সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এর ফলে প্রণালীর দুই প্রান্তে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়ে। যার মধ্যে ভারতেরই ২৮টি পণ্যবাহী জাহাজ ছিল। ভারতের গ্যাস সরবরাহের একটা বড় অংশই এই রুটের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন।[TECHTARANGA-POST:7288]সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট জাহাজ দু’টিতে বিপুল পরিমাণ এলপিজি (LPG) রয়েছে। শুধুমাত্র ‘শিবালিক’ জাহাজেই রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। এছাড়া, ‘নন্দাদেবী’ জাহাজেও প্রচুর পরিমাণ গ্যাস রয়েছে। অন্যদিকে, ‘জগপ্রকাশ’ নামে আরও একটি ভারতীয় জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকার দিকে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সেটিতে রয়েছে গ্যাসোলিন।[TECHTARANGA-POST:7285]শুক্রবার ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভারত ও ইরান বন্ধু দেশ। আমরা ভারতগামী কোনও বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে বাধা দেব না।” এই আশ্বাসের পরেই জাহাজ চলাচলে গতি এসেছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় দিনে প্রায় ৬ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার)-এরও বেশি গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল। যা ভারতের মোট আমদানিকৃত গ্যাসের প্রায় অর্ধেক।[TECHTARANGA-POST:7276]উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলিতে প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় কর্মী কর্মরত। হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেই উদ্বেগও অনেকটা প্রশমিত হল। নয়াদিল্লি বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহণ বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।